মণিরামপুরে ধানে পাতাপোড়া রোগ

আপডেট: 03:02:45 10/10/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : আর মাসখানেক পরেই ঘরে উঠবে আমন ধান। সেইলক্ষ্যে ধানের যত্ন নিতে দিনভর পরিশ্রম করছেন কৃষক। এরইমধ্যে কৃষকের কপালে পড়েছে ভাজ। হঠাৎ করেই ধানের আগা পুড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা।
মণিরামপুরের বেশিরভাগ মাঠে এই রোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেও মিলছে না আশানুরূপ ফল। কৃষকরা এমন হতাশায় দিন কাটালেও উপজেলা কৃষি অফিস তাদের কোনো খবর রাখে না বলে অভিযোগ।
রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক সুলতান আহম্মদ বলেন, পাঁচবিঘা জমির ধানগাছ কমবেশি আগা পুড়ে যাচ্ছে। বেশি আক্রান্ত হয়েছে এক বিঘা। দুইবার স্প্রে করেও ফল মিলছে না। দিনদিন রোগের মাত্রা বাড়ছে।
রোহিতা মাঠের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘আট শতক জমিতে গুটি স্বর্ণা ধান চাষ করেছি। ধানের থোড় আসার মতো হয়েছে। ১৫-২০ দিন আগে এক কোনায় কিছু ধানগাছের পাতা পোড়া দেখা দেছে। পরে এক সার দোকানির পরামর্শে তিন প্রকারের কীটনাশক একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করিছি। এখন দেখছি পুরো জমিতে ধরা করেছে।’
ওই মাঠের অসিত দাস ও দেবাশীষ বিশ্বাসের দেড় বিঘা করে জমিতে ধানের আড়াপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। তারাও কীটনাশক ব্যবহার করে কোনো ফল পাচ্ছেন না।
বাগডোব মাঠের কৃষক ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘আমার ১২ কাঠা জমির ধানের আগা পুড়ে গেছে। এছাড়া মাঠের অধিকাংশ জমিতে এই সমস্যা। কৃষি অফিসাররা কোনো দিন মাঠে উঁকি মেরেও দেখেন না।’
চলতি মৌসুমে উপজেলার ২২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে গুটি স্বর্ণা, ব্রি-৫১, ব্রি-৮৭, ব্রি-৯০-সহ নানা জাতের আমন চাষ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মাহমুদকাটি, রঘুনাথপুর, জালালপুর, হেলাঞ্চি, কাশিপুর, ইত্যা, কাশিমনগর, রোহিতা, বাগডোব, পট্টি, সরণপুর, দেবীদাসপুর, কাঁকড়ের বিল, হানুয়ার, শাহাপুর, মোবারকপুর, হরিদাসকাঠি, ঢাকুরিয়া মাঠে বিক্ষিপ্তভাবে ধানে আগাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে আমন মৌসুমে ধানে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তায় থাকলেও স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তাদের কোনো খোঁজ নেননি। অনেক কৃষক তার এলাকায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে চেনেনও না।
খেদাপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন অবশ্য বলেন, ধানের আগাপোড়া রোধে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হেচ্ছ। তাদের ব্যাকটোবান, বেকট্রোল ও নেকসুমিন কীটনাশকের যেকোনো একটি পরিমাণমতো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরককুমার সরকার বলেন, উপজেলার বেশকিছু নিচু ও ছায়াযুক্ত জমির ধানে আগাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। যেসব জমিতে বেশি ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব জমিতে এই সমস্যা বেশি। জমির পানি সরিয়ে দিয়ে পটাশ ব্যবহার করলে এই সমস্যা দূর হবে।
‘আমাদের উপসহকারীরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকরা সেটা না শুনে বাকির আশায় কীটনাশকের দোকানে গিয়ে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন। ফলে তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না,’ বলেন কৃষি কর্মকর্তা হীরক।

আরও পড়ুন