মণিরামপুরে ব্যস্ততা নেই কামারশালায়

আপডেট: 04:05:10 24/07/2020



img
img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ঈদের আর মাত্র এক সপ্তা বাকি। কিন্তু কুরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত চাপাতি এবং ছুরি কিনতে বা ধার করাতে কামারের দোকানে ভিড়তে দেখা যাচ্ছে না লোকজনকে। ফলে কর্মহীন অলস সময় যাচ্ছে মণিরামপুরের কামারদের। শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপজেলার গাঙ্গুলিয়া, বাসুদেবপুর, টেংরামারী, হানুয়ার ও রাজগঞ্জ বাজারসহ কামারপাড়া ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। করোনায় কর্মহীন হওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষতির কারণে এবছর মানুষের হাতে টাকা-পয়সা নেই। হাট এবং কুরবানির পশুর মাংস তৈরি ও বিলিবণ্টনে লোকজনের ভিড় এড়াতেও সামর্থবান অনেকে এবার কুরবানি করছেন না। তাই কামারশালাগুলো কার্যত ফাঁকা।
গাঙ্গুলিয়া গ্রামের গৌর কর্মকার বলেন, এইবারের মতো এতো খারাপ অবস্থা আগে কখনো হয়নি। এবার কাজ মোটেও নেই। সকাল থেকে এক টাকাও আয় হয়নি।
ওই পাড়ার মধু কর্মকার বলেন, 'গতবছর ঈদে কাজ করে ৭-৮ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার দুই হাজার টাকা লাভ হবে কিনা বলতে পারছিনে।'
আর রবিন কর্মকারের দাবি, এই বছর সবই লস।
রাজগঞ্জ বাজারের জয়দেব কর্মকার বলেন, 'অন্য বছর রাতদিন কাজ করে শেষ নামাতে পারতাম না। এবার কাজ নেই। সকাল থেকে বসে আছি।'
রাজগঞ্জ বাজারে ১৫-১৬টা কামারশালা ও কর্মকারের দোকান আছে। সবার একই অবস্থা।
ওই বাজারের পাইকারী বিক্রেতা দুলাল কর্মকার বলেন, 'সকাল থেকে কোনো বিক্রি নেই। দোকানে বসে ঝিমাচ্ছি।'
তবে গ্রাম এলাকার বাজার বা মোড়ের দুই-একজন কর্মকারকে বেশ কর্মব্যস্ত দেখা গেছে।
গাঙ্গুলিয়া আমতলা মোড়ের কানাই কর্মকার বলেন, 'আমার কাজ ভালো চলছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার কাজ বেশি হচ্ছে। গত ২০ দিন ধরে কাজের চাপ বেড়েছে। কেউ নতুন ছুরি বা চাপাতি গড়াচ্ছে, আবার কেউ কেউ পুরনোটা ধার করাতে আসছে।
আয় বাড়াতে সরকারি ঋণের দাবি করলেন কানাই কর্মকার।
কানাই কর্মকারের খদ্দের উপজেলার বাগডোব গ্রামের রজব আলী বলেন, 'এবার ছাগল কুরবানি করবো। তাই চাপাতি আর ছুরিতে ধার কাটাতে এসেছি।'

আরও পড়ুন