মণিরামপুরে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী করোনা পজেটিভ

আপডেট: 04:42:04 01/07/2020



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : হঠাৎ করেই মণিরামপুরে বাড়তে শুরু করেছে করোনা রোগীর সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর আসছে।
বুধবার নতুন দুইজনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাদের একজন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং অপরজন ব্যবসায়ী।  এই নিয়ে মণিরামপুরে করোনা আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৩১।
এর আগে মঙ্গলবার একদিনে সাতজনের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসে।
আজ শনাক্ত হওয়া ব্যাংকারের বাড়ি উপজেলার বাসুদেবপুর মাঠপাড়ায়। তিনি সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা। আর ব্যবসায়ীর বাড়ি পৌরএলাকার বিজয়রামপুরের বাঁধাঘাটায়। তিনি মণিরামপুর বাজারের মোল্লা হার্ডওয়ারের মালিক।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডা. শুভ্রা বলেন, গত সোমবার (২৯ জুন) জ্বর ও কাশি নিয়ে ঝিকরগাছা হাসপাতালে নমুনা দেন ব্যাংকার আরশাদ আলী। একই দিনে একই উপসর্গ নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেলেন মণিরামপুর পৌরসভার কাউন্সিলর বসু মোল্লার বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক। আজ বুধবার সকালে যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকে তাদের করোনা পজেটিভ আসার খবর জানানো হয়।
রিপোর্ট আসার পর থেকে আক্রান্ত দুইজনই নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন বলে জানান ডা. শুভ্রা।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম আটদিন আগে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত পাঁচ দিন ধরে তার জ্বর বা কাশি কোনোটাই নেই। তবে তিনি অ্যাজমার পুরনো রোগী- এমনটি জানিয়েছেন তার ছোটভাই মণিরামপুর উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুল ইসলাম।
আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তারপরও সতর্কতার জন্য রিপোর্ট আসার পর থেকে তিনিসহ আমরা পরিবারের সবাই কোয়ারেন্টাইনেই আছি।’
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. অনুপ বসু বলেন, আক্রান্ত ব্যাংকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার শরীরে এখন জ্বর নেই। হালকা কাশি আছে। আক্রান্ত দুইজনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, বুধবার পর্যন্ত মণিরামপুর হাসপাতাল থেকে ২৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া উপজেলার অনেকেই যশোর জেনারেল হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেন। তার মধ্যে মণিরামপুরে মোট ৩১ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। যাদের ১৩ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরেছেন।
মণিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, খবর আসা মাত্রই নতুন আক্রান্ত দুইজনের বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন