মণিরামপুরে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: 06:39:53 11/01/2021



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে ঘর নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নমানের ইট, ভিত (মাটি) না খুঁড়ে সমতলভূমিতে ইট পেতে গাঁথুনি ও সিমেন্ট-বালি কম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ভাটামালিকদের নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে কমদামে ইট বিক্রিতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) সরেজমিন উপজেলার শিরিলি এলাকায় গিয়ে এসবের সত্যতা মিলেছে। ওই মৌজায় ৪১টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।
এদিকে, ঘর নির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। এরআগে মাছনা এলাকায় ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার হতে দেখা গেছে।
শিরিলি মৌজায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরনির্মাণের কাজ চলছে। ঘরের দেওয়াল গাঁথার কাজ অর্ধেক পর্যন্ত শেষ হয়েছে। পাশেই তিনস্থানে রাখা আছে
নিম্নমানের কয়েক হাজার ইট। অধিকাংশ ঘরের গাঁথুনির কাজে খারাপ ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কারণে এরআগে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে
দেন বলে জানা গেছে।
উপকারভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, ইট ভালো না। হাত থেকে মাটিতে ফেললেই ভেঙে যাচ্ছে।
আলমগীর হোসেন নামে অপর উপকারভোগী বলেন, ভিত খোঁচা হয়নি। কোনোরকম বালি ছিটিয়ে মাটির ওপর থেকে গাঁথুনির কাজ শুরু হয়েছে। কেউ যেন দেখতে না পায় এজন্য বাইরের চারপাশ মাটি উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। আর সিমেন্ট বালিও ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না।
উপকারভোগীরা বলেন, এখানে নিচু একটি জমি আছে। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে। জমিটি মাটি ফেলে উঁচু না করে ঘর করা হচ্ছে।
ঘরগুলোর কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা তরিকুল ইসলাম বলেন, 'একসপ্তাহ আগে এখানে এসেছি। এরআগে দুই নম্বর ইট দিয়ে কাজ হচ্ছিল। আমি আসার পর ভালো ইট বুঝে নিচ্ছি। এখনো কিছু দুই নম্বর ইট আছে। সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।'
শিরিলি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে গেলে প্রদীপ দাস নামে এক ব্যক্তির তোপের মুখে পড়েন এই প্রতিবেদক। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, কোনো নেগেটিভ রিপোর্ট করা যাবে না। প্রদীপের বাড়ি কাশিমনগর ইউপির লেবুগাতি গ্রামে। তার নেতৃত্বে শিরিলি এলাকার ঘরগুলোতে অনিময় হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি ওই এলাকা থেকে এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান।
গত সপ্তাহে মণিরামপুরে ঘর নির্মাণের কাজ দেখতে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৩ মুহম্মদ শাহীন ইমরান। তিনি মাছনা এলাকায় নিম্নমানের ইট দেখতে পেয়ে সেগুলো ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এদিকে, ভয়ভীতি দেখিয়ে মণিরামপুরের ৪২টি ইটভাটা থেকে কমদামে ইট কেনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিগাড়ি ইট ১৪ হাজার টাকায় কেনার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সবভাটায় এক নম্বর ইট ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটা টিকিয়ে রাখতে মালিকপক্ষ কমদামে ইট দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভাটাগুলো থেকে ১০-২০ হাজার করে ইট আনলেও এখনো তাদের টাকা দেওয়া হয়নি। এই
নিয়ে ভাটা মালিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করলেও তারা মুখ খুলতে পারছেন না।
সম্প্রতি মণিরামপুর তিনটি ইটভাটা ভেঙে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর ভীতি ছড়িয়ে পড়ে ভাটামালিকদের মধ্যে। ইউএনও নিজে ১৪ হাজার টাকায় ইট কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে মণিরামপুরে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ২৬২টি ঘর নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে হাজরাইল, মাছনা, শিরিলি, হরিহরনগরের মধুপুর ও পৌরসভা এলাকায় ১৮২টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সব এলাকায়ই ঘর নির্মাণে নয়-ছয়ের অভিযোগ রয়েছে।
শিরিলি এলাকায় মাটির ওপরে ইট পেতে ঘরের দেয়াল গাঁথার ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, ঘরের ভেতরে ও বাইরে মাটি ফেললে ঠিক হয়ে যাবে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, 'পিআইওকে সাথে নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাব।' তিনি বলেন, 'ভাটা মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে না। গাড়িপ্রতি তাদের জন্য ১৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত দুইদিন ধরে সব ভাটা ঘুরে মালিকপক্ষকে এক নম্বর ইট দেওয়ার কথা বলেছি।'

আরও পড়ুন