মণিরামপুরে লবণের উচ্চদর, মাইকিং

আপডেট: 10:53:22 19/11/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মঙ্গলবার বিকেল থেকে মণিরামপুরে হঠাৎ লবণ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০-৮০ টাকা দরে। যে দোকানদার যেমন পারছেন তেমন হাকাচ্ছেন লবণের দাম। মঙ্গলবার সকালেও যে লবণ ১৩-১৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বিকেল গড়াতেই সেই লবণের দাম বেড়েছে তিনগুণ।
আগামীকাল বুধবার থেকে লবণের দাম বাড়বে এমন গুজবে বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমে। আবার বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেক দোকানদার লবণ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খবর নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিন মণিরামপুর বাজার ঘুরে ঈদের বাজারের মতো ভিড় দেখা গেছে।
এদিকে লবণের দাম বাড়ার খবর পেয়ে মণিরামপুর বাজার মনিটরে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দাম ঠিক থাকলেও তারা সরে যাওয়ার পর আবার বেশি দামে দোকানদারদের লবণ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
উপজেলার জলকর রোহিতা গ্রামের মেহেদী হাসান জানান, সন্ধ্যা থেকে রোহিতা বাজারে লবণ ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি দাম ৩০০ টাকা হবে এমন খবর পেয়ে গ্রামের নারীরা লবণ কিনতে বাজারে যাচ্ছেন।
টেংরামারী বাজার এলাকার হোসেন আলী বলেন, ‘দাম বাড়ার কথা শুনে তাড়াতাড়ি বাজারে আসি। কয়েক দোকান ঘুরে কোন লবণ না পেয়ে এক দোকান থেকে ১০০ টাকা দিয়ে দুই কেজি খোলা লবণ কিনেছি।’
রঘুনাথপুর গ্রামের নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে টেংরামারী বাজারের এক দোকানদার খোলা লবণ ৬০ টাকা করে চেয়েছে। কিন্তু আমি কিনিনি।’
ইত্যা বাজারে খোলা লবণ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মোশাররফ নামে এক ব্যক্তি।
শুধু গ্রামের বাজারে নয়, মণিরামপুর বাজারেও বেশি দামে লবণ বিক্রি হচ্ছে।
মণিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বাজারের একটি দোকান থেকে ৭০ টাকা দিয়ে দুই কেজি খোলা লবণ কিনেছি।’
এদিকে, গুজব ঠেকাতে মণিরামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি তুলসি বোস মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ২০ টাকা দরে লবণ বিক্রি শুরু করেছেন। ওই দোকানে দশ কেজি লবণ কিনতে আসেন সরুপজান নামে এক নারী। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলে কাজ করি। আগামীকাল থেকে ১৪০ টাকা লবণের কেজি হবে শুনে একসাথে দশ কেজি কিনতে এসেছি।’
তুলসি বোস বলেন, বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই, দামও বাড়েনি। তাই কেউ বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না বলে সব দোকানদারদের বলে দেওয়া হয়েছে।
যদিও তার সঙ্গে কথা বলার পরপরই বাজারের ‘মা কালি স্টোর’-এ গিয়ে ৩০ টাকা কেজিতে খোলা লবণ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে বেশি দামে লবণ বিক্রির খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মণিরামপুর বাজার মনিটরিং করেন ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী। এসময় তিনি দোকানমালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সতর্ক করেন।
জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত লবণ মজুত আছে। খোলা লবণ ২০ টাকা ও প্যাকেট লবণ ৩৫ টাকা করে বিক্রির জন্য দোকানদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সতর্ক করার জন্য এই ব্যাপারে মাইকিং করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন