মণিরামপুরে শিক্ষকদের আইসিটি কোর্সে অনিয়ম

আপডেট: 09:37:48 26/10/2019



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারের সহকারী প্রোগ্রামার অরিন্দম মণ্ডলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি প্রশিক্ষণ চালাতে গিয়ে স্বজনপ্রীতি, ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তোলন, শিক্ষকদের নাস্তার টাকা আত্মসাৎ, কর্মক্ষেত্রে ঠিকমতো হাজির না থাকাসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার নজিরও স্থাপন করেছেন। ফলে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ব্যানবেইসের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেসিক কোর্সের প্রশিক্ষণগ্রহণকারীরা। তবে, অভিযোগগুলো সাজানো বলে দাবি করেছেন অরিন্দম মণ্ডল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ২০১৬ সালের ২ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মণিরামপুরসহ দেশের ১২৫টি উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (বেনবেইস) কর্তৃক পরিচালিত মণিরামপুর আইসিটি সেন্টারে এই উপজেলা ছাড়াও কেশবপুর এবং অভয়নগর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা এবং কলেজের শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে সেন্টারটির দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী প্রোগ্রামার অরিন্দম মণ্ডল। এখানে সকাল-বিকেল দুই ব্যাচে ২৪ জন করে শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
আইসিটি বেসিক কোর্সে প্রশিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। অপরদিকে হার্ডওয়ার ট্রাবলশুটিং কোর্সে প্রশিক্ষক রয়েছেন তিনজন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বেসিক কোর্সে ছয়জন প্রশিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ট্রাবলশুটিং কোর্সের প্রশিক্ষক মনোজিত বিশ্বাসকে বেসিক কোর্সের প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাবলশুটিংয়ের তিনটি ব্যাচে বেসিক কোর্সের কোনো প্রশিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
শুধু তাই নয়, অরিন্দম মণ্ডল এখানকার প্রধান কর্মকর্তা হলেও প্রশিক্ষকদের বঞ্চিত করে নিজেই প্রশিক্ষক সেজে ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া প্রশিক্ষাণার্থীদের জন্য প্রতিদিন নাস্তা খরচ ৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র ১৫ টাকার নাস্তা দিয়ে বাকি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে জেনারেটর চালুর জন্য প্রতিব্যাচে চার হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু জেনারেটর চালু করা হয়না কখনো। ফলে লোডশেডিংকালে প্রশিক্ষণ ক্লাশ বন্ধ থাকে। অথচ তিনি ভাউচার দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করেন।
আবার তিনি নিজেই রিসোর্সপারসন সেজে ভাতা উত্তোলন করেন। কাজ না করিয়ে আইসিটি ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দের টাকাও পকেটে ঢোকান। আর সপ্তাহের অধিকাংশ সময় তিনি কর্মক্ষেত্রে থাকেন না।
প্রশিক্ষকরা তার এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ২২ অক্টোবর থেকে তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
কেন্দ্রটির প্রশিক্ষক মজনুর রহমান জানান, এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেই টাকা পকেটে ঢোকান না সহকারী প্রোগ্রামার অরিন্দম মণ্ডল। তার দুর্নীতির কারণে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে সহকারী প্রোগ্রামার অরিন্দম মণ্ডল তার বিরদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সাজানো বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘হার্ডওয়ার ট্রাবলশুটিং কোর্সের প্রশিক্ষক মনোজিত বিশ্বাসের পারফরমেন্স ভালো। তাকে বেসিক কোর্সের প্রশিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত নিয়োগ করায় এখানকার প্রশিক্ষকরা আমার ওপর ক্ষেপেছেন।’
দ্রুত বেসিক কোর্সের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন