মণিরামপুরে সরকারি দুই স্কুলে বেতন আদায় হচ্ছে

আপডেট: 03:35:54 07/11/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর): সরকারি নির্দেশনা না থাকলেও করোনায় বন্ধ থাকা নয় মাসের বেতন গুনতে হচ্ছে মণিরামপুরের সরকারি দুই হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের। ইতিমধ্যে বেতন চেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েছেন মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ ও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
লিখিত আদেশ না থাকলেও বিদ্যালয় দুটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বেতন নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি উভয় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের। সেই লক্ষে তারা ৬০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪৫০-৪৯৫ টাকা করে আদায় করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনাকালীন টানা বন্ধ থাকলে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নয় মাসের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে টাকা নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে তারা ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ৪৫০ টাকা, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৪৬৮ টাকা এবং অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৯৫ টাকা করে নির্ধারণ করে মোবাইল নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে উপবৃত্তি পাওয়া ৭০-৭৫ জন শিক্ষার্থীদের ১০০-১১৫ টাকা কম দিতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার বেতন আদায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন প্রতিষ্ঠানটি।
একইভাবে মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বেতন আদায় করছেন শিক্ষকরা। তারাও অভিভাবকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়েছেন।
করোনাকালীন টানা নয়মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রতিষ্ঠান দুটির বেতন আদায়ের বিষয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ অভিভাবকরা। কোনো লিখিত আদেশ ছাড়াই তাদের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে সমালোচনা।
মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শ্রেণিশিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের আদেশ পেয়ে বেতন চেয়ে নবম শ্রেণির অভিভাবকদের মেসেজ পাঠানো হয়েছে। আমরা নয় তারিখ (সোমবার) বেতন নেব।’
প্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কোহিনুর বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নয়মাস ধরে বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারল না। শিক্ষকরা বেতন চান কীভাবে? এর প্রতিকার হওয়া দরকার।
মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, ‘যশোর জিলা স্কুলসহ অন্য সরকারি স্কুলগুলো বেতন নিচ্ছে। সেই হিসেবে ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা বেতন নিচ্ছি। বেতন নেওয়ার ব্যাপারে সরকারি লিখিত কোনো আদেশ নেই।’
মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপনকুমার বলেন, ‘ইউএনও স্যারের পরামর্শে বেতন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের অনেক খরচ আছে।’
মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশচন্দ্র সরকার বলেন, ‘করোনায় স্কুলে বেতন নেওয়া বা না নেওয়া কোনোটির ব্যাপারে লিখিত কোনো আদেশ নেই। তবে সরকারি দুই স্কুলে বেতন নেওয়ার ব্যাপারে ইউএনও স্যারের লিখিত আদেশ আছে।’
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন না নেওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নাই। দেশের সব সরকারি হাইস্কুলে বেতন নিচ্ছে। তাই মণিরামপুরের সরকারি দুই হাইস্কুলে বেতন নিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন