মণিরামপুরে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি!

আপডেট: 07:37:04 10/06/2021



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মণিরামপুরে একটি হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করছে চার যুবক। প্রতিদিন সকাল থেকে বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তায় ঘুরে তারা এই চাঁদাবাজি করছে। হাতির সামনে পড়ে আতঙ্কে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন দোকানি বা পথচারীরা। গত ৪-৫ দিন ধরে মণিরামপুরে প্রকাশ্যে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ।
খুলনা থেকে হাতিটি নিয়ে চার যুবক মণিরামপুরে এসেছে। দিনের বেলায় তারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে টাকা আদায় করে। রাত হলে আশ্রয় নিচ্ছে রাস্তার পাশে কোনো বাগানে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৯-১০ জুন) সকালে হাতিসহ চার যুবককে মণিরামপুরের হাকোবা ও দেবিদাসপুর এলাকায় দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, এক যুবক হাতির পিঠে। হাতির পিছে হাঁটছে তিন যুবক। কোনো গাড়ি, মোটরসাইকেল, ভ্যান বা দোকান পেলে পথ আগলে দাঁড়াচ্ছে হাতিটি। এরপর শুঁঢ় বাড়িয়ে দিয়ে টাকা নিচ্ছে লোকজনের কাছ থেকে। সেই টাকা তুলে দিচ্ছে পিঠে বসা যুবকের কাছে। জনপ্রতি আদায় করা হচ্ছে ১০-২০ টাকা। দশ টাকার কম হলে টাকা নিচ্ছে না হাতি। তখন পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকছে। চাহিদামত টাকা পেলেই তারপর পথ ছেড়ে দাঁড়াচ্ছে। দুই-একজন স্বেচ্ছায় টাকা দিলেও অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হচ্ছে।
ভ্যানে যাওয়ার সময় হাকোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় হাতির চাঁদাবাজির শিকার হন নাসরিন খাতুন নামে এক গৃহবধূ। তিনি ১০ টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্যানে একা ছিলাম। হাতি এসে সামনে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীর নাকি টাকা দিতেই হবে। তাই ১০ টাকা দিলাম। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত পথ ছাড়ছিল না।
ভ্যান চালক মাসুম হোসেন বলেন, শুধু মণিরামপুরে না, ঝিকরগাছা বাজারেও হাতি দিয়ে টাকা তুলতে দেখিছি।
হাতির সাথে থাকা একজনের নাম রাব্বি হাসান। তিনি বলেন, ৪-৫ দিন আগে খুলনা থেকে আইছি। দিনে দেড়-দুই হাজার টাকা আয় হয়। রাত হলে এক জায়গায় হাতি বেঁধে কলাগাছ এনে দিই। হাতি কলাগাছ খায়। আমরা পাশে তাঁবুর নিচে ঘুমাই।
মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, হাতি দিয়ে কয়েকজন দুই টাকা,পাঁচ টাকা, দশ টাকা তোলে। এটাকে চাঁদাবাজি বলে না। তাছাড়া কেউ অভিযোগ করে না। ওদেরওতো পেট আছে। বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার পরামর্শ এই কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন