মধুমতিতে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন, হুমকির মুখে বসতি

আপডেট: 06:42:04 30/06/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়া মহিশাহপাড়া এলাকায় মধুমতি নদীতে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের ফলে ফসলি জমিসহ বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে নদীতে। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণসহ বালি উঠানো বন্ধের দাবি করছেন গ্রামবাসীরা।
মহিশাহপাড়াসহ কয়েক গ্রামের মানুষ নদীপাড়ে বিক্ষোভ করে বালি উত্তোলনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লোহাগড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মধুমতি নদীর পানির স্রোতে এমনিতেই নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। তারপর আবার নদীর কূল দিয়ে একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বালু মহল ইজারা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার একাধিক ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছেন। অপরিকল্পিতভাবে এ বালি উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন আরো তীব্রতর হচ্ছে।
মহিশাহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নড়াইল জেলা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সস্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন মুন্না ও ছাত্রলীগনেতা জামান সিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। আরো প্রায় দুই হাজার পরিবার নদীভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ওই পরিবারগুলোর বসতবাড়িও নদীগর্ভে চলে যাবে।
বালু মহলের ইজারাদার তরিকুল বিশ্বাস বলেন, ‘নদীর মাঝখানে চর জেগেছে। সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে আমি মেশিন দিয়ে ওই চর থেকে বালি কাটছি। সতর্কতার সাথে বালি কাটছি, তারপরও কিছুটা পানির চাপ নদীর পাড়ে আসছে এবং নদীর পাড় কিছুটা ভাঙছে। গ্রামের লোক বালি কাটতে বাধা দিয়েছে। আমি গ্রামের লোকের সাথে সমঝোতা করেই বালি কাটতে চাই।’
লোহাগড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাখী ব্যানার্জী এ বিষয়ে বলেন, ‘খবর পেয়ে মধুমতিপাড়ে গিয়ে সরেজমিনে দেখেছি ভাঙন তীব্র হচ্ছে। বসতবাড়িও ভেঙে যাচ্ছে। এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। আপাতত ওই এলাকায় বালি না কেটে অন্য স্থান থেকে বালি কাটা যায় কি-না, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ নেওয়াজ তালুকদার বলেন, স্থায়ী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশীদ বলেন, ‘লোহাগড়ার এসিল্যান্ডকে বলেছি সরেজমিন প্রতিবেদন দিতে। আর আপাতত ওই ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন না করতে ঠিকাদারকে বলে দেবো।’

আরও পড়ুন