মধুমতির ওপর ‘শেখ হাসিনা সেতু’ উদ্বোধন

আপডেট: 03:52:40 22/11/2020



img

মাগুরা প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শেখ হাসিনা সেতু’ উদ্বোধন করেছেন। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর ওপর এলাংখালী ঘাটে নবনির্মিত সেতুটি ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ।
সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মাগুরা প্রান্তে অনুষ্ঠান হয়। মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম সভাপতিত্ব করেন।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার, পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডু, পৌরসভার মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আফাজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জুলিয়া সুকাইনা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম খানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্র্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর ওপর ‘শেখ হাসিনা সেতু’টি নির্মিত হয়েছে।  উপজেলার এলাংখালী-জাঙ্গালিয়া ঘাটে ৬০০ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬৩ কোটি ৩১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। মূল সেতু ছাড়াও এর দু’পাড়ে প্রটেকশনসহ অ্যাপ্রোচ সড়কের মোট দৈর্ঘ্য এক হাজার ১৭৬ মিটার। এর মধ্যে পূর্ব প্রান্তে ৪৬৬ মিটার ও পশ্চিম প্রান্তে ৭১০ মিটার নতুন সড়ক নির্মিত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আশা, সেতুটি নির্মাণের ফলে এলাকার জনগণের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যে গতি সঞ্চার হবে। এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় আধুনিক নগর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এর পাশপাশি সরকারের প্রশাসনিক সেবা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গতি আসবে এবং জনগণ সরকারি সেবাসমূহ সহজেই লাভ করতে পারবে।
সরকারি তথ্য মতে, মধুমতি নদীর তীরঘেঁষে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কয়েক শতাব্দীর প্রাচীন জনপদ রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী খ্যাত মহম্মদপুর উপজেলা। জেলার এই উপজেলায় প্রায় দুই লাখ লোকের বাস। পাশের ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলা এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মধুমতি নদী ছিল একটি বড় বাধা। এই জনপদের মানুষদের উল্টো পথে মাগুরা সদর হয়ে এসব এলাকায় যাতায়াত করতে হতো। মধুমতি নদীর ওপর একটি সেতুর চাহিদা ছিল দীর্ঘদিনের।
নবনির্মিত সেতুটি মাগুরা জেলার মহম্মদপুরের সঙ্গে পূর্ব দিকে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি, আলফাডাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া হয়ে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুকে সংযুক্ত করবে। ফলে মহম্মদপুর উপজেলা ও ঢাকার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৯৮ কিলোমিটার হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী হয়ে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য  ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। মহম্মদপুর থেকে পাশের শালিখা উপজেলা এবং নড়াইল জেলার লোহাগড়া ও যশোর জেলার বাঘারপাড়া এলাকার জনসাধারণ সহজেই সেতুটি ব্যবহার করে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।

আরও পড়ুন