মধুমেলা শুরু বুধবার

আপডেট: 06:09:35 20/01/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) :
দাঁড়াও, পথিক-বর, জন্ম যদি তব
বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধিস্থলে
(জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি
বিরাম) মহীর পদে মহা নিদ্রাবৃত
দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!
যশোরে সাগর-দাঁড়ী কবতক্ষ-তীরে
জন্মভূমি, জন্মদাতা দত্ত মহামতি
রাজনারায়ণ নামে, জননী জাহ্নবী!
বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী মহাপুরুষ যুগশ্রেষ্ঠ অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৬তম জন্মজয়ন্তী ২৫ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে কবির জন্ম¯হান যশোর জেলার কেশবপুরের সাগরদাঁড়ীতে বুধবার শুরু হচ্ছে সাতদিনব্যাপী মধুমেলা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপ¯িহত থেকে মধুমেলা উদ্বোধন করবেন।
২৫ জানুয়ারি কবির জন্মদিন হলেও এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবারের মেলা আগেভাগে, ২২ জানুয়ারি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেলা চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
কবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়ীতে মেলার অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মেলার মাঠে শোভা পাচ্ছে পুতুলনাচ, সার্কাস, যাত্রামঞ্চসহ ও বিভিন্ন পণ্যের স্টল।
১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি মধুসূদন দত্ত কেশবপুরের কপোতাক্ষের পাড়ে সাগরদাঁড়ী গ্রামে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তৎকালীন জমিদার ও আইনজীবী রাজনারায়ণ দত্ত, মা জাহ্নবী দেবী।
মধুসূদন শৈশবে মা জাহ্নবী দেবী, শিক্ষক হরলাল রায় ও সাগরদাঁড়ীর কাছে শেখপুরা গ্রামের মৌলভি খন্দকার মখমল আহমদের কাছে বাংলা ও ফারসি শিক্ষা লাভ করেন। এখানে শৈশব কাটিয়ে দশ বছর বয়সে কলকাতার খিদিরপুরে চলে যান। সেখানে বিভিন্ন ভাষায় জ্ঞানার্জন করেন। এরপর ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবার তার জন্মভূমি সাগরদাঁড়ীতে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে তিনি মহাকাব্য মেঘনাদবধ, কাব্য ব্রজঙ্গনা, বীরাঙ্গনা, ও তিলোত্তমা সম্ভব রচনা করেন।
১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন মাইকেল মধুসূদন দত্ত কলকাতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অব¯হায় মারা যান।