মধ্যরাতে বিএনপি অফিস ও নেতাদের বাড়ি আক্রান্ত

আপডেট: 02:55:56 18/10/2020



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ভোটের দুইদিন আগে মাঝরাতে যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়সহ দলের বেশ কয়েক নেতার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। অফিস ও বাড়ি ভাঙচুরের জন্য ‘শাসক দলের সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছেন বিএনপি নেতারা।
শনিবার দিনগত রাত একটার পরপরই সিরিজ এই হামলা শুরু হয়। হামলার খবর পুলিশকে দেওয়া হলেও তারা কোনো ভূমিকা রাখেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যেমনটি ঘটানো হয়েছিল গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সুবর্ণভূমিকে গত রাত দুইটার দিকে জানান, কিছু সময় আগে অজ্ঞাত ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল ও কারযোগে তার উপশহর বি ব্লকের বাড়ির সামনে আসে। ওই সময় তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উপর্যুপরি ইটপাটকেল ছুড়ে বাড়ির জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে। তাদের ছোড়া ইট ঘরের মধ্যেও চলে আসে। এসময় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
অ্যাডভোকেট সাবু ওই রাতে দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য গোলাম রেজা দুলু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুর বাড়ি এবং জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয় বলে জানান।
বলেন, ‘হামলা চলাকালে কোতয়ালী থানার ওসি-কে দুই দফা ফোন করি। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।’
রাত তিনটার কিছু সময় আগে মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু সুবর্ণভূমিকে জানান, কিছু সময় আগে তার বাড়িতে হামলা হয়েছে। দুটি কার ও ১০-১২টি মোটরসাইকেলযোগে এসে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা ছাড়াও ‘ভোট করার মজা বুঝিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেয়।
তিনি জানান, বিষয়টি দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন কোতয়ালী থানার ওসি-কে ফোনে জানিয়েছেন। ওসি তাকে বলেছেন, ‘আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে।’
দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, রাত আড়াইটার দিকে ২০-২৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা বিএনপি কার্যালয়ে আসে। ওই সময় ভেতরে ভোটের পোস্টার বাধার কাজ করছিল কর্মীরা। দুর্বৃত্তরা দরজা লাথি মেরে ছিটকিনি ভেঙে ভেতরে ঢুকে কর্মীদের মারপিট ও ভাঙচুর করে। এরপর নির্বাচনের জন্য রাখা ভোটারতালিকাসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ও নির্বাচনী মালামাল একটি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা দলীয় কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয়।
একই রাতে দলের সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম তরিকুল ইসলামের বাড়িতেও হামলা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। খবর মিলেছে সাবেক কাউন্সিলর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী আনিছুর রহমান মুকুলের বাড়িতে হামলারও।
এ ঘটনা রিটার্নিং অফিসার ও কোতয়ালী থানায় জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন