মরার আগে কি ভাতা জুটবে?

আপডেট: 03:21:51 22/11/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : কফুরোন্নেছার প্রকৃত বয়স নব্বই। জাতীয় পরিচয়পত্রের হিসেব অনুযায়ী তার বয়স ৮১ বছর। স্বামীকে হারিয়েছেন এক বছর আগে। কোনো প্রকারের ভাতা না জোটায় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বৃদ্ধার জানার ইচ্ছা, মরার আগে কি জুটবে একটি ভাতার কার্ড?
কফুরোন্নেছা মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া রোহিতা গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। একমাত্র ছেলে আব্দুস সামাদের আশ্রয়ে রয়েছেন। বৃদ্ধার ছেলে আব্দুস সামাদও বয়স্কভাতা পাওয়ার যোগ্য। তাদের খবর রাখেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সমাজসেবা কর্মী। ফলে, মা ছেলে দু’জনে রয়েছেন ভাতা বঞ্চিত।
বৃদ্ধা বলেন, ‌‘গ্রামের মেম্বরের কাছে গিলাম (গিয়েছিলাম)। কার্ড করে দেবে কইলো। এখনো দিয়নি।’
বৃদ্ধার ছেলে আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ভিটেটুকু ছাড়া কিছু নেই। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলে। আমরা সরকারি কোনো সুবিধে পাইনে।’
বৃদ্ধার পোতা ছেলে শাহা আলম বলেন, ‘ক’মাস আগে মাইকিং করে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকেছিল। দাদিকে সাথে নিয়ে কাগজপত্র জমা দিয়েছি। ওই সময় অনেকের কার্ড হয়েছে। দাদিরটা হয়নি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিতুল ইসলাম বলেন, ‘এবার বরাদ্দ এলে কফুরোন্নেছার কার্ড করে দেব।’
এই বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আপাতত বরাদ্দ নেই। আগামীতে বরাদ্দ এলে ভাতার কার্ড দেওয়া যাবে। তার আগে বৃদ্ধার পক্ষ থেকে একটা আবেদন করতে হবে।’