মহম্মদপুরে জন্মসনদে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: 07:13:41 03/06/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আট ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন সনদ নিতে সরকার-নির্ধারিত ফির চেয়ে চার থেকে ছয়গুণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্মসনদে জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল সংশোধনেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও বেসরকারি উদ্যোক্তা।
অভিভাবকরা জানান, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইউনিক আইডি ও প্রোফাইল তৈরির জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে সরকার। এসব তথ্যের মধ্যে শিক্ষার্থী ও তার বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদও চাওয়া হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর জন্মসনদ ও শিক্ষাগত সনদের তথ্যের মিল নেই। অনেকের বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল রয়েছে। ফলে সংশোধিত জন্মসনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভীড় করছেন। আর এ সুযোগে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও উদ্যোক্তা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা এবং জন্মতারিখ ব্যতিত বাবার নাম, মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সংশোধনের পর সনদের কপি বিনা ফিসে সরবরাহের কথাও বলা হয়েছে।
কলেজছাত্র মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা-মা এবং আমার জন্মসনদ সংশোধনের জন্য বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। তিনটি সংশোধনের জন্য তারা আমার কাছ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখের দুই জায়গায় ভুল থাকায় আরো ২৫০ টাকা নিয়েছে।’
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারুফা খাতুন জানায়, জন্মসনদে তার জন্মতারিখ এবং বাবা-মায়ের নামের বানান ভুল হয়েছে। এগুলো সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখানে তাকে সরকারি ফির অতিরিক্ত চারগুণ টাকা গুনতে হয়েছে।
উপজেলার নিখড়হাটা গ্রামের এক অভিভাবক আলি হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে মেয়েদের স্কুলের জন্য আটটি জন্মসনদ সংশোধন করেছি বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। তারা আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে মোট দুই হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত জন্মসনদ সংশোধনের কপি হাতে পাইনি। এরকম টাকা লাগলে ছেলে-মেয়েকে পড়ানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।’
অবশ্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা রাকিবুল ইসলাম। তার ভাষ্য, ‘উদ্যোক্তা খরচ এবং সরকারি ফিসহ একেবারেই সামান্য টাকা নিচ্ছি।’
তবে বিনা ফিসে সংশোধিত সনদ সরবরাহের কথা থাকলেও টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব বিকাশ বিশ্বাস। তার বক্তব্য, উদ্যোক্তাদের মাধ্যমেই সংশোধিত কপি দেওয়া হচ্ছে। তারা কিছু টাকা নিচ্ছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামানন্দ পাল বলেন, যদি কেউ সরকারিভাবে নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে থাকেন, তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন