মহিষ চুরিতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সেক্রেটারি

আপডেট: 10:59:41 29/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : মহিষ চুরির মামলায় তিন নম্বর আসামি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন।
এ নিয়ে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনা তদন্তে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়ালসহ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বলছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার গুড়পাড়া থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন কৃষক নাসির উদ্দীনের দুটি মহিষ চুরি হয়। এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর থানায় ২৬ জুন একটি মামলা হয়। মামলার পর জেলার পুলিশ কালীগঞ্জ উপজেলার চাঁচড়া এলাকার সদ্য প্রয়াত আজগার আলীর ছেলে সেলিমের বাড়ি থেকে একটি মহিষ উদ্ধার করে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সেলিম। এসময় মহিষ উদ্ধার নিয়ে পুলিশের সঙ্গে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটে। পরে আটক সেলিম আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। সেখানেই নাম আসে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমনের।
আদালতে সেলিম জানান, তিনি চোর নন। মহিষটি শিবনগর গ্রামের মনির হোসেন সুমন, একই গ্রামের মিলন, কোটচাঁদপুরের বলুহর গ্রামের ঢালীপাড়ার তরিকুল ও চুয়াডাঙ্গার রশিদ তার কাছে বিক্রি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোটচাঁদপুরের এসআই তৌহিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা চুরি হওয়া দুটি মহিষ উদ্ধার করে মালিককে ফেরত দিয়েছি। এই মামলায় কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এসেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন জানান, তিনি কিছুই জানেন না। তবে এ রকম কিছু হয়ে থাকলে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘ঘটনা যদি অসত্য হলে আমরা সাংগঠনিকভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আর যদি সঠিক হয় তবে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তারা জানান, এ বিষয়ে তারা মঙ্গলবার চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ছাত্রলীগ নেতা মুশফিকুর রহিম নাছিম, তৌহিদুল ইসলাম, এনামুল হক আবু ও মো. রায়হান খান।

আরও পড়ুন