মহেশপুরে ক্যাপসিকাম চাষে সফল মামা-ভাগ্নে

আপডেট: 07:53:00 01/03/2020



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মহেশপুরে প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল হয়েছেন মামা সুলতান মাহমুদ ও ভাগ্নে আলমগীর কবির। সবজি হিসেবে ব্যবহার্য ফলটি বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন তারা। উপজেলার সীমান্তবর্তী কুসুমপুর মাঠপাড়ায় তারা তিন একর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করেন।
শুরুতে বাংলাদেশি কিছু বীজ থেকে চারা তৈরির চেষ্টা করে সফলতা পাননি তারা। এরপর কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বীজ এনে বীজতলা করেন তারা। সেখান থেকে দেড় হাজার চারা তিন একর জমিতে রোপণ করেন। দুই মাস পর থেকেই শুরু হয় সবজি সংগ্রহ।
সাধারণত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে বীজ ছেটানোর পর নভেম্বর থেকেই জমি তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে চারা রোপণ শুরু হয়।
ক্যাপসিকাম চাষি সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘বিদেশি এই ফসলের জন্য তাপমাত্রা লাগে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এখানে অনেক সময় কম-বেশি হয়েছে। তবুও আমাদের ফলনের কমতি হয়নি। এ বছর বাংলাদেশের কোথাও ক্যাপসিকামের ভালো ফলন হয়নি, কিন্তু আমাদের ফলন ভালো হয়েছে।’
‘এক একর জমিতে দেড় হাজার গাছ লাগিয়েছিলাম। তবে সেখান থেকে সাতশয়ের মতো গাছ মারা যায় আর বাকিগুলো থেকে ফল সংগ্রহ চলছে। প্রতি গাছে ১২ থেকে ১৫টি ক্যাপসিকাম আছে। ৫-৬টিতে এক কেজি হচ্ছে। পাইকারি এই ফল ঢাকায় পাঠাই ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দামে। বর্তমানে প্রতিদিন ৫-৭ শ কেজি ক্যাপসিকাম পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। ক্ষেত থেকে ক্যাপসিকাম আরো প্রায় ১২০ দিন সংগ্রহ করা যাবে। আবার অনেক গাছেই নতুন করে ফুল থেকে ফল আসছে।’
অপর চাষি আলমগীর কবির বলেন, ‘ইতোমধ্যে চার লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি হয়েছে। আরো ছয় লক্ষাধিক টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রির আশা করছি। সাধারণত ক্ষেত থেকে তুলে ফলগুলো প্যাকেজিং করে ঢাকায় পাঠানো হয়। কৃষি কর্মকর্তারা সবসময়ই আমাদের ক্ষেতে আসছেন, খোঁজ-খবর নিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরাও তাদের পরামর্শে কাজ করে ভালো ফলাফল পাচ্ছি।’
ক্যাপসিক্যাম ক্ষেতে আসা দর্শনার্থী আব্বাস আলী বলেন, নতুন একটি সবজি চাষ হয়েছে শুনে এখানে এসেছি। এটি আগে আমরা কোনোদিন দেখিনি। বিদেশি এই সবজি আমাদের মহেশপুরে চাষ হচ্ছে, দেখে খুবই ভালো লাগছে।’
উপজেলার স্বরূপপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল কবির জানান, ক্যাপসিকামের মূল শত্রু এফিডজ্যাসিড জাতীয় কিছু পোকা। এই পোকা দমনে এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষমুক্ত ইয়োলো ও ব্লু ট্র্যাপ। এই পোকা না লাগলে ফলন অনেক ভালো হয়।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, আমদানি করা ক্যাপসিকামের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ক্যাপসিকামের গুণগত মান অনেক ভালো। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এটি বিদেশে রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীতে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই সবজি চাষ বাড়াতে পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার কৃষককে ক্ষেতে এনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপযোগী বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা হাসান।