মহেশপুরে বিপুল মাদক ধ্বংস করলো বিজিবি

আপডেট: 04:11:14 03/12/2019



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের (যশোর) ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল আমিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জিয়া সাদাত খান, ঝিনাইদহ ৫৮ বিজিবি পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল আহসান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজকুমার নাথ, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসন ও বিজিবির কর্মকর্তারা।
৫৮ বিজিবির ভাষ্য, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ হাজার ৯১৬ বোতল ফেনসিডিল, দুই হাজার ৫০২ বোতল ভারতীয় মদ, সাড়ে তিন লিটার বাংলা মদ, ৫০ কেজি গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে; যেগুলো ধ্বংস করা হলো আজ। ধ্বংস করা এসব মাদকের আনুমানিক দাম এক কোটি ৪৩ লাখ তিন হাজার টাকা।
এর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল আমিরুল ইসলাম বলেন, দেশের যুবসমাজ আগামী দিনের সম্পদ। তারাই দেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলবে। কিন্তু অনেকেই নেশাগ্রস্ত হয়ে খারাপ পথে পা বাড়াচ্ছে। তাই যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে নিয়মিতই বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে ঢুকছে। এর একটি অংশ বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশের হাতে আটক বা উদ্ধার হয়। স্থানীয়দের অভিমত, যে পরিমাণ মাদক আটক হয়, তার থেকে অনেক গুণ বেশি সীমান্তরক্ষীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের ঢুকছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার প্রায় ৫৭ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১১ কিলোমিটর রয়েছে কাঁটাতারবিহীন। ওই এলাকাজুড়ে রয়েছে কোদলা নদী। এসব এলাকা দিয়ে মূলত রাতের অন্ধকারে মাদকদ্রব্য আসে। বিভিন্ন সময় এসব সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা আগ্নেয়াস্ত্র, সোনাসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার হচ্ছে।
২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানে ঝিনাইদহের সন্দেহভাজন সাত মাদক ব্যবসায়ী পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন। সেই সময় মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই গা-ঢাকা দেন। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন।
এদিকে, চলতি বছরের ৩ মে জেলার কোটচাঁদপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কথিত গোলাগুলিতে এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এছাড়া চলতি বছর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন।
এতোকিছুর পরও উদ্ধার হওয়া মাদক দেখে নিশ্চিত করা যায়, চোরাচালানিরা সক্রিয় রয়েছেন।

আরও পড়ুন