মহেশপুর সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত বাড়ছে

আপডেট: 08:39:18 11/10/2020



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ফের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের যাতায়াত বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম দশ দিনে ৭৪ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে খালিশপুর ৫৮ বিজিবি।
সবশেষ শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জেলার মহেশপুর উপজেলার শ্রীনাথপুর সীমান্ত পার হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে তিন শিশু ও পাঁচ নারীসহ ১৭ জনকে আটক করে বিজিবি। শ্রীনাথপুর সীমান্তের গুড়দাহ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর আগে ৬ অক্টোবর জেলার ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৪৩ জনকে আটক করে বিজিবি। এছাড়া ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের সময় ১৫ নারী-পুরুষ আটক হয়েছে।
তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। যাদের কাছে কোনো দেশেরই বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা নেই। তাদের কেউ দুই বছর, কেউ পাঁচ থেকে দশ বছর হলো পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করছে। আটক সবার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে পাসপোর্ট অধ্যাদেশ আইনে মামলা করে স্থানীয় থানায় মামলা করেছে বিজিবি।
বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল আহসান বলেন, ‘গেল বছর ভারতের আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি তৈরির পর অনেকে অবৈধপথে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসেছিল। তারাই এখন আবার ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রাথমিকভাবে এটাই আমরা জানতে পেরেছি। তবে তাদের ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।’
চলতি বছরের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ২০৩ জন বাংলাদেশি এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করায় দশ ভারতীয়কে আটক করে বিজিবি। এছাড়া ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ৩৬৩ জনের বেশি মানুষকে আটক করে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি।
ঝিনাইদহে ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে ৫৭ কিলোমিটার। এরমধ্যে কাঁটাতারবিহীন এলাকা রয়েছে প্রায় ১১ কিলোমিটার। কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়েই বেশি অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে বিজিবি ও পুলিশ জানিয়েছে।
মহেশপুর সীমান্তের মাটিলা গ্রামের নুরুন নবী নামে এক গ্রামবাসী জানান, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে লোক আসে ভারত থেকে। অনেক সময় তারা সীমানা ক্রস করে বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নেয়। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়। এরা মূলত দালালদের মাধ্যমে এপার-ওপার করে থাকে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু বলেন, সম্প্রতি ভারত সরকার সেদেশের প্রকৃত নাগরিকদের তথ্য বের করতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করে। তালিকায় নাম না থাকায় নির্যাতনের ভয়ে এসব অনুপ্রবেশকারী বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এখন তারা আবার অবৈধভাবে ফিরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা অনেকেই সম্পত্তি বিক্রি করে চলে গিয়েছিল। এখন তারাই আবার অবৈধ পথে ফিরে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন