মাইগ্রেনের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে ক্যাপসিকাম!

আপডেট: 11:10:22 28/05/2021



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সারাবছর ধরে পাওয়া গেলেও অধিকাংশ বাঙালি সে অর্থে ক্যাপসিকামকে গুরুত্বই দেন না। কারণ এর স্বাদ অনেকেরই পছন্দ না। চাইনিজ রান্না কিংবা স্যালাডে কখনও সখনও খেলেও, ক্যাপসিকামকে রোজকার পাতে রাখেন না অনেকেই। কিন্তু এর পুষ্টিগুণ জানলে এবার থেকে রোজ খেতে বাধ্য হবেন সকলেই।
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, সবুজ ক্যাপসিকাম প্রায়ই পাওয়া যায় বাজারে। সেভাবে যদিও লাল কিংবা হলুদ ক্যাপসিকাম পাওয়া যায় না। আজকের এই ব্যস্ততার যুগে যে সবজিগুলো একটা মানুষের প্রতিদিন খাওয়া উচিত, ক্যাপসিকাম তার মধ্যে অন্যতম। শরীরের নানা চাহিদা পূরণ করে, পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কোনও অসুখ থেকে রেহাইও পাওয়া যায়।

ক্যাপসিকামের গুণাবলী সম্পর্কে ভারতের পুষ্টিবিদ অজন্তা সরকার জানালেন-
'১. ক্যাপসিকামে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়তে নিয়মিত খেলে ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে এটি।
২. ভিটামিন এ রয়েছে এতে। চোখের নানা রকম সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের ক্যাপসিকাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ঠাসা। ফলে বয়স বাড়লেও শরীর তরতাজা থাকে।
৪. ত্বক এবং চুলের জন্য ভীষণ উপকারী। বিশেষ করে যাঁরা ব্রণর সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা চটজলদি সমাধান পাবেন। তাছাড়াও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এটি।
৫. মাইগ্রেনের ওষুধ বলা হয় ক্যাপসিকামকে। লাল কিংবা সবুজ, যেকোনও ক্যাপসিকামই শরীরে এবং মাথায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে মাথা যন্ত্রণা, মাইগ্রেন এইধরনের সমস্যার মোক্ষম দাওয়াই এটি।
৬.ক্যাপসাইসিনস নামক একটি উপাদান থাকে এতে। যা ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৭. কোলেস্টেরল কম থাকে। খেলেও ওজন বেড়ে যাওয়ার চিন্তা থাকে না মোটেই।
৮. অস্টিওআর্থ্রাইটিসের রোগীদেরও নিয়মিত ক্যাপসিকাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।'

কীভাবে খাবেন
পুষ্টিবিদ অন্তরা হাজরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন এক্ষেত্রে। জানালেন,
১. ক্যাপসিকাম সবসময় স্যালাডের সঙ্গে খাওয়া উচিত। আরও বিভিন্ন সবুজ সবজির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
২. চাইনিজ রান্না, বা যেকোনও রান্নায় ক্যাপসিকাম খেলে সেভাবে উপকার পাওয়া যায় না।
৩. উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। ফলে শরীরের যতটুকু পুষ্টির প্রয়োজন সেটা খেলেও মেটে না।
৪. কাঁচা বা অল্প ফ্রাই করে খাওয়ার পরামর্শ দেব।
৫. লাল ক্যাপসিকাম বয়স্কদের জন্য ভীষণ উপকারী। অন্যদিকে অল্পবয়সিদের সবুজ ক্যাপসিকাম খাওয়া উচিত।
৬. তবে অতিরিক্ত নয়। সঠিক সাইজের ক্যাপসিকাম অর্ধেকটা খাওয়া উচিত প্রতিদিন।
৭. ফ্রিজে দিনের পর দিন জমিয়ে তারপর খেতে নিষেধ করব। বরং বাজার থেকে কেনার দু থেকে তিন দিনের মধ্যে খাওয়া উচিত বলে মনে করি।'
সূত্র : আজকাল

আরও পড়ুন