মাগুরায় সাড়া ফেলেছে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান

আপডেট: 02:31:05 06/02/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা : কল করলেই চা নিয়ে হাজির কবির হোসেন। তার বাড়ি সদরের শিবরামপুর গ্রামে। ব্যাটারি চালিত পুরনো একটি ভেসপা মোটরবাইকে করে দিনভর মাগুরা শহরতলীর বিভিন্ন অলি-গলি, হাট-বাজার, দোকান কিংবা উন্মুক্ত স্থানে বসে তার চা দোকানের পরসা। ভেসপা মোটরবাইকের মাঝে বড় বড় দুটি ফ্লাস্ক নিয়ে ছুটে চলা তার। ইতিমধ্যে 'কবির ভাইয়ের' এ ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান মাগুরায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, '৮-১০ বছর আমি সংবাদপত্রের হকার ছিলাম । বিভিন্ন স্থানে সংবাদপত্র বিক্রি করে আমার সংসার চলতো। কিন্তু সংবাদপত্র বিক্রি করে যখন সংসার চলতো না তখন তার পাশপাশি নতুন বাজারে একটি চায়ের দোকার করি। চায়ের দোকানে লোকজন কম হওয়াতে আমি ছোট একটি ব্যাটারিচালিত ভেসপা গাড়ি কিনে এ ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রি শুরু করি। প্রায় এক বছর হয়ে গেল ব্যবসা ভালো চলছে।'  'আমার দরিদ্র সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে টেক্সাটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে , ছোট ছেলে মাদরাসায় আর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বড় ছেলের প্রতি মাসে খরচ বাবদ ৫-৬ হাজার টাকা পাঠাতে হয়। আর উপার্জনের বাকি টাকায় কোনো রকম সংসার চলে।'
তিনি আরো বলেন, 'যেখানে চা বিক্রি করি সেখানে অনেকে আমার মোবাইল নম্বর রেখে দিই। তারা কল করলেই আমি সাথে সাথে পৌঁছে দিই চা। লাল চা বেশি বিক্রি হয়, পাশাপাশি দুধ চা এবং কফিও বিক্রি হয়। প্রতিটি লাল চা পাঁচ টাকা, দুধ চা দশ টাকা ও কফি দশ টাকায় বিক্রি করি। প্রতিদিন ৮০০-৯০০ টাকা আমার উপার্জন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আমার ব্যবসা ভালো চলছে। শহরের নতুন বাজারেই আমার ভ্রাম্যমাণ চা ভালো চলে। পাশাপাশি হাটের দিনে বা উৎসবে, উন্মুক্ত স্থানে চা বিক্রি ভালো হয়। পরিচিত অনেকেই আমাকে কল করে চা খায়। পাশপাশি বিভিন্ন অফিসের স্যারেরা কল করলেই তাদের চা পৌঁছে দিই।'
চা ক্রেতা হলি চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, 'আমি দীর্ঘ চার মাস ধরে কবির ভাইয়ের চা পান করছি। স্কুলের কাজের চাপে বাইরে চা খাওয়ার সময় পাই না। কবির ভাইকে কল করলেই তিনি স্কুলে এসে দিয়ে যান। তার চায়ের স্বাদ খুবই ভালো। আমি সময় পেলেই খাওয়ার চেষ্টা করি।'

আরও পড়ুন