মাদক মামলায় দুই বোনকে বাড়িতে সাজাভোগের আদেশ

আপডেট: 10:45:56 24/02/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে এবার মাদক মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই বোনকে সাত শর্তে বাড়িতে সাজাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যুগ্ম দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের আব্দুল গণির মেয়ে রোজিনা খাতুন ও সেলিনা খাতুন।
এ নিয়ে তিনটি মামলায় দন্ডিতদের প্রবেশনে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন এ বিচারক।
বাড়িতে থেকে সাজাভোগের শর্তগুলো হলো- কোন প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারবেন না। শান্তি বজায় রেখে সকলের সাথে সদাচারণ করতে হবে। আদালত অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাকে যেকোনো সময় তলব করিলে শাস্তি ভোগের জন্য প্রস্তুত হয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হতে হবে। কোন প্রকার মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ এবং সেবনকারী, বহনকারী ও হেফাজতকারীর সাথে মেলামেশা করা যাবে না। একই সাথে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত প্রবেশন অফিসারের তত্বাবধানে  থেকে জীবনযাপনের অবস্থা অবহিত করতে হবে। একইসাথে প্রবেশন অফিসারের লিখিত অনুমতি ছাড়া নিজের এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না।
এর ব্যত্যয় ঘটলে আসামিদের প্রত্যেকে দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদ- কারাগারে ভোগ করতে হবে।
যুগ্ম দায়রা জজ-২ আদালতের এপিপি আইয়ুব খান বাবুল জানান, ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকা থেকে রোজিনা খাতুনকে ১২ পুরিয়া ও সেলিনা খাতুনকে ১০ পুরিয়া হোরোইনসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। এ মামলায় দীর্ঘ স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ আদেশ দিয়েছেন।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, এ মামলা চলাকালে জামিন পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৪ বছরের মধ্যে আসামিরা হাজিরা দিতে গাফলতি করেননি। এ মামলা ছাড়া তাদের নামে আর কোন মামলাও নেই। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুর্নবাসনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্রবেশনে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারক।
তিনি আরো বলেন, চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে এধরণের তিনটি রায় দিয়েছেন যুগ্ম দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস।

আরও পড়ুন