মান্নার ওপর যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা

আপডেট: 10:45:27 19/10/2020



img
img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার ওপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে তার ওপর হামলা করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ৬৮তম জন্মদিন ও খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও গরিব মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার জানান, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তার (তৈমুর আলম খন্দকার) রূপগঞ্জের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তৈমুর আলম খন্দকার দাবি করেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য চলার সময়ে রামদা, লোহার রড, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা দোয়া মাহফিলে আসা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বহন করা মাইক্রোবাসসহ আটটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে মঞ্চসহ চেয়ার টেবিল, সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করে এবং ব্যানার কেটে ফেলে দেয়।
তিনি আরো দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি, মাহমুদুর রহমান মান্না, মহিলাদল নেত্রী ফাতেমা বেগম, পারভীন বেগম, যুবদল নেতা আশরাফুল হক, ছাত্রদল নেতা সজীব আহমেদসহ কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তৈমুর আলম খন্দকার জানান, ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল শিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই মাকসুদুর আলম খন্দকার বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষে স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে রূপগঞ্জের খন্দকার বাড়িতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও গরিব মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বিকেল চারটার মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না, তৈমুর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়ামসহ অনেকেই। ওই সময়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। উপস্থিত লোকজনদের একের পর এক ধরে ধরে মারধর করতে থাকে। মঞ্চ থেকে নেতাদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলাকারীরা সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আকস্মিক এ হামলায় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এভাবে একটি হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’
এ ব্যাপারে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘তৈমুর আলমের জন্মদিন ও খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডাররা রামদা, লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে মঞ্চ, গাড়ি, হোন্ডা ভাঙচুর করে। এ সময় তাদের ধাওয়ায় মঞ্চ থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে আমি আহত হয়েছি।’
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত তাদের কাছে হামলার কোনো খবর আসেনি। তবে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
রূপগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই এলাকার ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ অন্যান্য সংগঠনের যারা আছে তারা তাদের জিজ্ঞাসা করতে সেখানে যায়। কী অনুষ্ঠান চলছে তা জানার চেষ্টা করেছে মাত্র। পরবর্তীতে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিল করে চলে যায়।
এদিকে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবীর হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের সদস্য রিয়াজ ও যুবলীগের রাসেলের নেতৃত্বে রামদা, রড, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। হামলায় আরো আহত হন নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাকিব আনোয়ার, যুব ঐক্যের কেন্দ্রীয় সদস্য আনিসুর রহমান মুন্নাসহ ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী। এ সময় হামলাকারীরা মান্নার গাড়িসহ অন্যান্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় নাগরিক ঐক্য।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন