মাল্টা চাষে ভাগ্য বদল ওলিয়ারের

আপডেট: 02:29:51 22/11/2020



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা : মাল্টা চাষ করে ভাগ্য বদল হয়েছে মাগুরার ওলিয়ার রহমানের। তার বাগানের সুস্বাদু সবুজ রঙের মাল্টা সংগ্রহ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজির হচ্ছেন ফল ব্যবসায়ীরা। এ বছরই বাগান থেকে তিনি ৩০ লাখ টাকার মাল্টা ঘরে তুলেছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার জগদল গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব ওলিয়ার রহমানের ছোটবেলা থেকেই নানারকম বাগান করার নেশা। ৪ বছর আগে হর্টিকালচারিস্ট ড. মনিরুজ্জামানের সাথে পরামর্শ করে তিনি একটি মাল্টা বাগান করার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী যশোরের ঝুমঝমপুর থেকে সংগ্রহ করেন বারি-১ মাল্টার চারা। তিন বিঘা জমির উপর শুরু করেন মাল্টার চাষ। এ বছর তার বাগান ভরে উঠেছে মাল্টায়। সব মিলে ৮০০ মণ মাল্টা সংগ্রহ হয়েছে বাগান থেকে।
সুস্বাদু এ মাল্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা আসছেন। ইতোমধ্যে ২৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। আশা করছেন, আরো ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে।
ওলিয়ার রহমান বলেন, চার বছর আগে এই বাগানে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। তখন মূলত শখের বশেই করেছিলাম। ভাবিনি এই বাগান থেকে এক বছরেই ৩০ লাখ টাকার ফল পাব। এখন বাগান পরিচর্যার জন্য ৮ জন লোক কাজ করছে। এ বাগান থেকে আরো ১২ বছর ফল আসবে। স্বপ্ন দেখছি, আরো লোক কাজ করবে, বাগান আরো সম্প্রসারণ করা হবে।
ময়মনসিংহ থেকে আগত ফল ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া বলেন, এই বাগানের মাল্টা খুবই মিষ্টি এবং ফরমালিনমুক্ত। অচিরেই এর বাজার বাংলাদেশের সব অঞ্চলে ছড়িয়ে যাবে।
ওয়াইআরএফপি (ইয়ার রাউন্ড ফ্রুট প্রডাকশন) প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক ড. মেহেদী মাসুদ বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে ২ লাখ মেট্রিক টন মাল্টার চাহিদা রয়েছে। যা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩০ হাজার মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদিত হচ্ছে। যদি কৃষকদের উৎসাহ দিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে মাল্টা আমদানির প্রয়োজন হবে না।
মাগুরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, মাল্টা যেমন মানবদেহে ভিটামিন সির চাহিদা পূরণ করে; ঠিক তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য এটা খুবই সহায়ক।
হর্টিকালচারিস্ট ড. মনিরুজ্জামান বলেন, মাগুরার মাটি বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। এ ধরণের মাটি মাল্টা উৎপাদনে যা সহায়ক। এছাড়া এই মাটিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অম্লের উপস্থিতি এবং লবণাক্তহীনতা মাল্টাকে সুস্বাদু করে তুলেছে। আমরা মাগুরায় মাল্টা চাষ নিয়ে আশাবাদী।