মাল্টা চাষে সফল নারী আফরোজা

আপডেট: 02:12:09 25/09/2020



img
img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : পাঁচ একর জমিতে মাল্টার চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন নারী উদ্যোক্তা আফরোজা আক্তার। ইতিমধ্যে তার বাগানজুড়ে মাল্টাগাছে ফল এসেছে।
এবছরই প্রথম গাছে ফল এলো। গাছে থরে থরে সাজানো ফল। আর মাত্র দেড় মাস পরেই পরিপক্ক মাল্টা বাজারজাত করতে পারবেন। চার লক্ষাধিক টাকার মালটা বিক্রি করতে পারবেন বলে তার আশা।
আফরোজা আক্তারের স্বামী লাবলু সিকদার সৌদি আরব প্রবাসী। গ্রামের বাড়ি কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের কাঠাদুরা গ্রামে। বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে পাশের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের লুটিয়া গ্রামে তাদের নিজস্ব জমিতে আড়াই বছর আগে এই নারী শুরু করেন মাল্টার চাষাবাদ।
আফরোজা জানান, তার স্বামী প্রবাসী লাবলু সিকদারের অনুপ্রেরণায় মাল্টা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ইন্টারনেটে মাল্টা চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। উদ্বুদ্ধ হয়ে ভালো চারা কোথায় পাওয়া যাবে- সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেন। চারার ব্যাপারে যোগাযোগ হয় ময়মনসিংহের একটি নার্সারিতে। সেখান থেকে এক হাজার ৩০০ চারা এনে জমিতে লাগানো হয় ।
নিবিড় পরিচর্যা আর যত্নে চারাগুলো ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এবছর গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। তার জমির এক হাজার গাছে কম-বেশি ফল এসেছে। গাছ ভেদে ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত ফল ধরেছে। প্রথম বছর তুলনামূলকভাবে ফল কম ধরলেও চার লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
‘মাল্টা গাছে মাঝে-মধ্যে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তবে এ ব্যাপারে ইউটিউবের পাশাপাশি লোহাগড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করে তা দমন করা সম্ভব হয়েছে। অন্য ফসল চাষের তুলনায় মাল্টাবাগানে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হতে পারবো। তবে মাল্টা বাজারজাত নিয়ে দুর্ভাবনায় আছি। বাগানে যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটির অবস্থায় খুব খারাপ,’ বলছিলেন আফরোজা।
এদিকে, এলাকার অনেক চাষি প্রতিদিন মাল্টার বাগান দেখতে আসেন। তারা আফরোজার কাছ থেকে এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। তাদের অনেকে মাল্টা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইতনা গ্রামের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর শোনার পর আমি বাগানটি দেখতে যাই। সেখান থেকে কাঁচা মাল্টা রস করে খেয়েছি। স্বাদ খুব ভালো। একজন নারী উদ্যোক্তা সাহস নিয়ে এতো বড় বাগান গড়ে তুলেছে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমিও একটি বাগান করার চিন্তা-ভাবনা করছি।’
স্কুল শিক্ষার্থী লাবন্য খানম বলেন, ‘বাজার থেকে মাল্টা কিনে খেয়েছি। কিন্তু এই বাগানের মাল্টার স্বাদ যেন আরো ভালো এবং মিষ্টি।’
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের তত্ত্বাবধানে আফরোজা প্রায় পাঁচ একর জমিতে মাল্টার চাষ করেছে। আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশা করি এ বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হলে নড়াইলের চাহিদার পাশাপাশি যশোর ও গোপালগঞ্জ জেলার চাহিদার কিছুটাও পূরণ হবে এই বাগান থেকে। এছাড়া আশপাশের এলাকাগুলোর চাষিরা মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক দীপককুমার রায় বলেন, ‘আফরোজা আক্তারের মাল্টা বাগান তৈরির পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তিনি কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে মাল্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। উদ্যোক্তা আফরোজা আক্তারের এই পদক্ষেপ আশা করি আগামীতে মাল্টা চাষ সম্প্রসারণে দারুণ ভূমিকা রাখবে।’

আরও পড়ুন