মিঠুন মণ্ডলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি যশোর ইমাম পরিষদের

আপডেট: 08:10:27 13/10/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিকারী সাতক্ষীরার জনৈক মিঠুনকুমার মণ্ডলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে যশোর জেলা ইমাম পরিষদ।
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে সমাবেশটি হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোরী।
সমাবেশে ধর্মীয় নেতারা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ঈন্ধনে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তারা এই দেশের বিরাজমান শান্তি নষ্ট করতে চায়। এজন্য পরিকল্পিতভাবে এই শান্তিপূর্ণ দেশে হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠনের ঈন্ধনে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। তারই ধারাবাহিকতায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিঠুন মণ্ডল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার পরিজনদের নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর কথা প্রচার করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
তারা বলেন, অতীতে দেশে এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটেছে। কিন্তু অভিযুক্তদের শুধু গ্রেফতার করার মধ্যেই অ্যাকশন সীমাবদ্ধ থাকে। অজ্ঞাত কারণে তাদের বিচার করা হয়নি। বরং দোষীদের কৌশলে জামিন দিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেকারণে কোনো বিচার না হওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা একের পর এক ইসলাম ধর্ম এবং মুসলমানদের প্রিয় নবী ও সাহাবিদের বিরুদ্ধে কটূক্তির সাহস পাচ্ছে।
সমাবেশে বলা হয়, আর চুপ থাকার মতো পরিস্থিতি নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
তারা বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদে মাত্র কয়েক দিনের আন্দোলনে যদি আইনে সাজা বাড়ানো যেতে পারে তাহলে কেন ৯০ শতাংশ মুসলমানের বসবাসকারী এই বাংলাদেশে ইসলাম ও নবীজির বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের ফাঁসি হবে না? সরকারকেই দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে দেশের তৌহিদি জনতা বসে থাকবে না। তারা এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আল্লাহ, রাসুল ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের সাজা ফাঁসি নির্ধারণের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব উত্থাপন করেন জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মো. বেলায়েত হোসেন।
মুফতি কামরুল আনোয়ার নাঈম ও মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমীর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুফতি মো. মুজিবুর রহমান, মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান, মাওলানা নাজমুল হক, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা হামিদুল ইসলাম, মাওলানা নাসিরুল্লাহ, মাওলানা নাজির উদ্দীন, মুফতি শামসুর রহমান, মুফতি হাফিজুর রহমান, মুফতি আব্দুর রহমান এযাযী, মুফতি মাহমুদ হাসান, মাওলানা আরিফুল্লাহ আলমগীর, মুফতি উবায়দুল্লাহ শাকির, মুফতি মাসুদুর রহমান ও মুফতি আব্দুল হান্নান।
সমাবেশ শেষে যবিপ্রবি শিক্ষার্থী মিঠুন মণ্ডলের ফাঁসি দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে কয়েক হাজার লোক অংশ নেন।
সম্প্রতি যবিপ্রবি শিক্ষার্থী মিঠুনকুমার মণ্ডল ফেসবুকে একটি পোস্টের নিচে কমেন্ট করেন। সেখানে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মিঠুনের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ভোরে সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। একই দিন যবিপ্রবি তার ছাত্রত্ব বাতিল করে।

আরও পড়ুন