মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চান মাগুরার খেলাফত

আপডেট: 07:55:58 01/04/2021



img

এস আলম তুহিন, মাগুরা : স্বাধীনতার জন্য এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অগ্রগণ্য। সেদিন যেসব মুক্তিযোদ্ধা নিজের জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদেরই একজন মাগুরা সদরের ফুলবাড়ি গ্রামের মৃত কাজী এবাদত হোসেনের সন্তান কাজী খেলাফত হোসেন (৭১)। যিনি শেষ বয়সে এসেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন রাতদিন। স্বপ্ন দেখেন একটি নতুন ভোরের। তারও কপালে জুটবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। আর এটাই যেন তার জীবনের শেষ চাওয়া। অন্ততপক্ষে মরার আগে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু নিয়ে মরতে চান তিনি।
কাজী খেলাফত হোসেনের সাথে একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মাগুরা সদরের রাউতড়া গ্রামের চিত্রশিল্পী আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কাজী খেলাফত খুবই সৎ ও সাহসী একজন মানুষ। ও আমাদের সাথে মুজিব বাহিনী থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু  আজও স্বীকৃতি পায়নি।’
কথা প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা এটিএম মহব্বত আলী বলেন, কাজী খেলাফত মুজিব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ১৯৭২ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে পুলিশে ভর্তি হন। মুক্তিযোদ্ধার কোটায় পুলিশে ভর্তি হওয়ার পরও আজও তিনি স্বীকৃতি পেলেন না। অথচ অনেকে মুক্তিযুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন, নিচ্ছেন ভাতা। এটা অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার।
মুক্তিযোদ্ধা কাজী খেলাফত হোসেনের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। তার সন্তান এখলাছুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার বাবা নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তারও তো অবদান আছে। কিন্তু অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বলতে হয়, স্বাধীনতার এই ৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বা সম্মানটুকু তাকে দেওয়া হলো না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন আমার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।’
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কাজী খেলাফত হোসেন বলেন, ‘আমি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুজিব বাহিনীর যোদ্ধা ছিলাম। আমার সহযোদ্ধা ছিলেন আবু খায়ের, গোলাম মোস্তফা, মো. মশিউর, মুন্সি আব্দুর রউফসহ অনেকে। ১৯৭২ সালে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে পুলিশের চাকরিতে প্রবেশ করি। নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেও আজও আমি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলাম না। এটাই আমার জীবনের বড় অতৃপ্তি। বর্তমান সরকারের কাছে আমার জীবনের শেষ চাওয়া- তারা যেন আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়। তাহলে আমি মরেও শান্তি পাব ‘
মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার-১ এস এম আব্দুর রহমান বলেন, ‘তার (খেলাফত) বিষয়ে আমার জানা নেই। সে হতে পারে মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আমাদের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। এ বিষয়ে সে কোনো আবেদন আমাদের কাছে করেনি। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি খুবই কঠিন কাজ । যদি সে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদন করে, সে বিষয়ের আমাদের জানা নেই।’

আরও পড়ুন