মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

আপডেট: 07:24:44 25/03/2020



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেল তিনটার পর তার মুক্তির আদেশ হাসপাতালে পৌঁছায়। এর পরপরই বেগম জিয়ার কেবিনের সামনে থেকে পুলিশ প্রহরা সরিয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রায় ২৫ মাস পর তখনই তিনি মুক্তি পেলেন।
টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে নিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বেগম জিয়ার স্বজনরা দুপুরেই হাসপাতালে উপস্থিত হন। ক্রমে সেখানে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মির্জা ফখরুলকে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের সরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায়। তখনো বেগম জিয়া হাসপাতাল কেবিন ছেড়ে নিচে নামেননি।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশে।
বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের হাত ঘুরে বুধবার বিকেল তিনটার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পৌঁছায়।
এরপর প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দিয়ে তার কেবিনের সামনে থেকে পুলিশি প্রহরা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান।
এর আগে দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিও তৈরি হয়েছে। সচিব (সুরক্ষা সেবা) সই করেছেন। আইজি প্রিজন বাকি কাজটুকু করবেন।’
বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, মুক্তির দুই শর্ত আবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘মুক্ত হওয়ার পরে ছয় মাস কোনো রাজনেতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া। তিনি চিকিৎসা নেবেন নিজ বাসায় এবং বিদেশ যেতে পারবেন না। এই দুই শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’
মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এখনো। ছয় মাসের জন্য দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। ফলে তিনি এই সময়কালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে আনা হয় তাকে।
২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানো হয় তাকে। খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার।  তিনি জানান, খালেদা জিয়া ১ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। সেদিন দুপুর ২.১৫ মিনিটে তিনি ভর্তি হন। আর তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছেন।
করোনা সংক্রমণরোধে প্রায় লকডাউন হয়ে যাওয়া নগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বিষয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে নিজের অজান্তে আক্রান্ত হওয়ার ব্যবস্থা করবেন না। ফলে বাসার বাইরে যাবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আপনি অন্যদের ক্ষতি বা আক্রান্ত করবেন কিনা— এটা নিজের হৃদয় দিয়ে বুঝতে হবে। এটা মানবিক বিষয়, প্রত্যেককে বুঝতে হবে।’

আরও পড়ুন