মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে, বিতর্কিত দাবি কর্তার

আপডেট: 04:33:29 12/02/2020



img

তারেক মাহমুদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ‘মেয়োদোত্তীর্ণ ওষুধ ছয় মাস বা এক বছর পর্যন্ত খেলে তা স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না। এটি মেডিকেল টেস্টে প্রমাণিত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না- এমন কোনো বিধান নেই।’
বুধবার ঝিনাইদহে শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে এসব কথা বলেন ঝিনাইদহ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান।
তবে বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার সেলিনা বেগমের বক্তব্য ভিন্ন। জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলছেন, কোনোক্রমেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না। মেয়াদ শেষ হলে ওষুধের উপাদানগুলোর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়; যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কোন ওষুধের মেয়াদ কবে শেষ হবে, কতদিন গুণগতমান থাকবে তা কোম্পানিগুলো দেখেই তৈরি করে। কিন্তু ওষুধ প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা কীভাবে এবং কোন নির্দেশনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে বলেছেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস ধরে ঝিনাইদহ জেলা শহরের ওষুধের দোকানগুলো আগের ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশনে ওষুধ বিক্রি বন্ধ রেখেছে। পরে তারা কোম্পানির এমআরপিতে বিক্রি শুরু করে; যা কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার শহরের প্রায় ১৫টি ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এরমধ্যে তিনটি দোকানে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মণ্ডল, জেলা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইরফানুল হক জানান, সরকারি নির্দেশনা না থাকলেও ফার্মেসিতে কমিশন বাদে এমআরপি রেটে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় শহরের মাসুদ ফার্মেসিকে দুই হাজার, আক্তার ফার্মেসিকে পাঁচ হাজার এবং তাজমহল ফার্মেসিকে পাঁচ হাজার টাকা জারিমানা করা হয়। অন্যদের সতর্ক করা হয়েছে ভবিষ্যতে যেন এমন অনিয়ম না করা হয়।
এসময় ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসানের বক্তব্য সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এই ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে- এমন বক্তব্য প্রমাণ করার দায়িত্ব ওই কর্মকর্তার।

আরও পড়ুন