মৌ-চাষিদের দুর্দিন

আপডেট: 06:09:30 27/01/2021



img
img

এস আলম তুহিন, মাগুরা : চারদিকে সর্ষের হলুদ ক্ষেত। মাঝখানে কিছু মধুর বাক্স। শত শত মৌমাছি সর্ষেক্ষেতের ফুলে ফুলে বসে মধু গুঞ্জন তুলছে। ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ফিরে আসছে মৌ-বাক্সে। এই অবারিত সর্ষের ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহের দৃশ্য দেখলে মন ভালো হতে বাধ্য।
সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ। গায়ের মেঠো পথ বেয়ে কেউ হাঁটলে মনে হবে যেন হলুদে আচ্ছাদিত গ্রাম। এখানকার তেঘরিয়া গ্রামের মৌ-চাষি মো. ইস্রাইল। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০০২ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘ভাই ভাই মৌ খামার’।
মৌ-চাষি ইস্রাইল জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকা থেকে তিনি কিছু মৌমাছি সংগ্রহ করে ৬৫টি বাক্স নিয়ে মাঠে মাঠে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। সর্ষে, লিচু, কালি জিরার মৌসুমে তিনি মাগুরাসহ আশপাশের জেলায় এই কাজে নিয়োজিত থাকেন। সাধারণত বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত পর্যন্ত মধু সংগ্রহের অফসিজন। এই সাত মাস বাক্সে থাকা মৌমাছিগুলোকে চিনি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। এই সাত সাত মাস মৌমাছির খাওয়া বাবদ তার এক লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। চিনির পাশাপাশি দুই হাজার কাগুজে লেবুও খাওয়াতে হয়। পাশাপাশি নিতে হয় বাড়তি যত্ন। তারপর মৌসুম শুরু হলে মৌমাছিগুলোকে মাঠে এনে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমার ৮৫টি মৌমাছির বাক্স রয়েছে। নিজের উদ্যোগে ১২ হাজার টাকা দিয়ে তৈরি করেছি মধু সংগ্রহের মেশিন। প্রথমে মৌ-বাক্স থেকে মধু এনে মেশিনে পরিশোধন করা হয়। এ বছর আমার মৌ-চাষে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। খরচ বাদে আশা করছি দুই-আড়াই লাখ টাকা আয় হবে। গত মৌসুমটা ছিল ভালো। অনেক লাভ হয়েছিল। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। সংগৃহীত অনেক মধু খামারে রয়ে গেছে। প্রতি বছর চট্টগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, শিবচর থেকে ব্যাপারিরা এসে মধু কিনে নিয়ে যায়। এ বছর করোনার প্রকোপে ব্যাপারিরা আসছে না। সেই কারণে আমার খরচ উঠছে না। প্রতিদিন আমার শ্রমিক বাবদ দেড়-দুই হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু মধু বিক্রি না হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে।’
প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, ‘আমি মধু সংগ্রহ করতে ফরিদপুর, শিবচর, পাবনা, দিনাজপুর ও সুন্দরবন এলাকায় কাজ করে থাকি। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় নিজ এলাকায় মধু সংগ্রহের কাজ করছি। বর্তমানে আমার এখানে ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের পেছনে মাসিক ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে ব্যবসা না হওয়ায় আমিসহ এলাকার আরো ৭-৮ জন মৌ-চাষির ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে।’
এই মৌচাষির আক্ষেপ, কোনো সরকারি সহায়তা পাননি তিনি।

আরও পড়ুন