ম্যাজিস্ট্রেটের নমুনা খুলনায় নেগেটিভ ঢাকায় পজেটিভ

আপডেট: 10:20:42 28/05/2020



img

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (৩০) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। তিনি ঢাকায় নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বাসক (মিডিয়া সেল) জানান, খুলনা জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এক সপ্তাহ আগে করোনার সামান্য করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তখন খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট বসাক জানান, তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং ঢাকায় বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার অবস্থা গুরুতর হলে হাসপাতালে নেওয়া হবে।
এর আগেও খুমেক ল্যাবের নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসার পর রোগীরা ঢাকার পরীক্ষা করিয়ে ফলাফল পজেটিভ পেয়েছেন। গেল বুধবার (২৭ মে) সাতক্ষীরায় দুই নারীর নমুনা ঢাকা আইইডিসিআরের পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়ে। ওই দুজনের একই নমুনা প্রথমে খুলনায় পরীক্ষা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার সখীপুর ইউনিয়নের এক গৃহবধূর (৪৫) জ্বর, সর্দি ও কাশি থাকায় করোনা সন্দেহে ১৪ মে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৭ মে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু ওই নারীর লক্ষণ নিয়ে তখনো সন্দেহ থাকায় নমুনা ঢাকার আইইসিডিআরে পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে মোবাইলে খুদে বার্তায় জানানো হয়, ওই গৃহবধূর করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ।
এছাড়া বল্লী ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রের সম্প্রতি করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। তার নমুনা খুমেকে পরীক্ষা করলে ফল পজেটিভ আসে। ওই সময় ছাত্রের মায়ের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিবেদন নেগেটিভ এলে সেই নমুনা আবার পাঠানো হয় ঢাকা আইইডিসিআরে। ঢাকা থেকে খুদে বার্তায় জানানো হয়, ওই নারীর পরীক্ষার ফল পজেটিভ।
একই ব্যক্তির নমুনায় ফলাফল ভিন্ন কেন হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুমেকের ল্যাবে কোনো সমস্যা নেই। বলাই আছে একটি আধুনিক পিসিআর ল্যাবে ৭০ ভাগ ফলাফল সঠিক হয়। ৩০ ভাগ ফলাফল ভুল হতে পারে। এটা হতে পারে নেগেটিভ বা পজেটিভ। নমুনা সংগ্রহের সময় গলায় ভাইরাসের উপস্থিতি কম-বেশি থাকার ওপর নির্ভর করে ফলাফল।
প্রসঙ্গত, সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা শুরুর প্রথম দেড় মাসে খুলনা ল্যাবে পজেটিভের হার ছিল এক শতাংশেরও নিচে। তখনো পর্যন্ত দেশে গড়ে পজেটিভ ফল আসছিল ১৪ শতাংশের কাছাকাছি। পাশের জেলা যশোরেও যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারে পরীক্ষিত নমুনার প্রায় ১৫ শতাংশ পজেটিভ ফল দিচ্ছিল। ফলে খুলনা ল্যাবের পরীক্ষার ফল নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়। সাম্প্রতিককালে অবশ্য দেখা যাচ্ছে, ওই ল্যাবে পরীক্ষিত নমুনার ফল পজেটিভ আসার হার বেড়েছে।

আরও পড়ুন