যবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের সংঘাত, আহত ৫

আপডেট: 09:53:05 25/09/2019



img
img

যবিপ্রবি প্রতিনিধি : ফেসবুকে কমেন্টকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘষের্র ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগ কর্মী মারুফ হাসান ফেসবুকে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী তামান্না দোলার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল রানার অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যের ক্ষুদেবার্তার স্ক্রিনশট দিয়ে বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। তারই প্রেক্ষিতে আজ দুপুরে ছাত্রলীগ কর্মী অন্তর দে শুভ ও তার অনুসারীরা জুয়েল রানার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। ছাত্রলীগকর্মী কামরুল হাসান শিহাব বাধা দিতে এলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তার ওপরও হামলা করে শুভর অনুসারীরা।
উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে নিরাপদ দূরত্ব সরিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জুয়েল রানা ও শিহাব শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের অনুসারী।
দুপুরের ঘটনার কিছুসময় পর আবার শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন রকির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মী ও পিইএসএস বিভাগের অন্তর দে শুভ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মারুফ হাসান (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), ফিসারিজ ও মেরিন বায়োসাইন্স বিভাগের ইসমে আজম শুভ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭), একই বিভাগের মাহমুদুল হাসান সাকিব পেট্রলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক খন্দকারের (শিক্ষাবর্ষ ২০১৪-১৫) ওপর হামলা চালায়। এতে আশিক আহত হন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এরপর সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের অনুসারীরা আশিক খন্দকারের নেতৃত্বে রহিতসহ প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসাইন রকির উপর লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গোটা ঘটনায় আহতরা হলেন, শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হাসান রকি, একই বিভাগের কামরুল হাসান শিহাব, পেট্রলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক খন্দকার, গণিত বিভাগের জুয়েল রানা, ইংরেজি বিভাগ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুস রহিত প্রমুখ।
সংঘাতের সময় ক্যাম্পাসে পুলিশ ছিল। তাদের নীরব ভূমিকা দেখা যায়। তবে শেষ মুহূর্তে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে ছাত্রলীগকর্মী রুহুল কুদ্দুস রহিত গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
দায়িত্বরত পুলিশের এসআই মাহবুব হাসানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লাঠিচার্জের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবেই চলছে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সুষ্ঠু কার্যক্রমকে ব্যাহত করার জন্য একদল বহিরাগত অছাত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর ওপর যদি কোন বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলা করে তার বিচার করা হবে।
‘আর শিক্ষার্থীর সাথে যদি কেউ খারাপ ব্যবহার বা ইভটিজিং করে থাকে এবং এর কোনো লিখিত অভিযোগ আমি পাই এবং এর যদি কোন সঠিক প্রমাণ থাকে তাহলে সেটা আমি অবশ্যই খতিয়ে দেখবো এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’
উপাচার্য মন্তব্য করেন, সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অরাজকতা শুরু হয়েছে, তারই ফলস্বরূপ কুরাজনীতির একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে’ যা কখনো সফল হতে দেওয়া যাবে না। আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রক্টর দপ্তর থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

আরও পড়ুন