যশোরে বাসের মধ্যে ‘ধর্ষিত’ নারীর জবানবন্দি

আপডেট: 10:06:47 13/10/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে বাসের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে রুজু হওয়া মামলার বাদী ২৫ বছর বয়সী নারী মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ওই নারী বলেছেন, বাসের হেলপার মনিরুল ইসলাম মনি তার পূর্ব পরিচিত। ঘটনার দিন বিকেলে রাজশাহী থেকে তিনি বাসে ওঠেন। রাতে যশোরের মণিহার এলাকায় এসে পৌঁছায় গাড়িটি। এ সময় তিনি ও মনি সেখানকার একটি হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করেন। পরে মনিরুল ইসলাম মনি রাতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসের ভেতর নিয়ে যান। দরজা আটকে দিয়ে বাসের ভেতর তাকে ধর্ষণ করেন মনি। এরপর অপরিচিত দুজন এসে ধাক্কাধাক্কি করলে মনিরুল ইসলাম মনি বাসের দরজা খুলে দেন। পরে ওই দুই ব্যক্তি বাসের ভেতর ঢুকে তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি ঘটান।
আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক টি এম মুসা ওই নারীকে তার ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (অপারেশনস) শেখ আবু হেনা মিলন জানান, ওই নারীকে মঙ্গলবার শেল্টারহোম থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।
গত ৮ অক্টোবর রাতে বকচর হুশতলায় এম কে পরিবহনের একটি বাসের ভেতর বাঘারপাড়া উপজেলার একটি গ্রামের ওই নারীকে পূর্ব পরিচিত মনিরুল ইসলাম মনি আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে ওই রাতে আরো ছয় শ্রমিক সেখানে গিয়ে তাকে মারধর এবং এর মধ্যে তিনজন তার শ্লীলতাহানি ঘটান এমন অভিযোগ এনে মামলা করেন ওই নারী। অভিযুক্তদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম মনি গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে পরিবহন শ্রমিকনেতারা বলছেন, বাসের হেলপার মনির সঙ্গে ওই নারীর অনেকদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ওই নারী রাজশাহী থেকে এসে প্রায়ই মনির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হন। শেষ দিন বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আটক ছয় শ্রমিককে নির্দোষ দাবি করে তাদের মুক্তি চেয়ে আসছে পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতি।

আরও পড়ুন