যশোরে মুন্না হত্যার দায় স্বীকার সন্ত্রাসী শিমুলের

আপডেট: 12:06:57 03/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর শহরের বড়বাজার মাছবাজারের আড়ত কর্মচারী শেখ ইমরান হোসেন মুন্না হত্যা মামলার এক আসামি শিমুল বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জবানবন্দিতে শিমুল আদালতকে জানান, তিনি শহরের কাঠেরপুল এলাকার জনৈক শাকিলের তুসঘরে শ্রমিকের কাজ করেন। একই মামলার আসামি পলাশ ও হৃদয় তার বন্ধু। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পলাশ ও হৃদয়ের সঙ্গে রাকিব নামে একজন তার বাড়িতে আসেন। ওই সময় রাকিব তাকে ডেকে বলেন যে, মুন্না তাকে মেরেছে। এরপর তিনিসহ পলাশ, রাকিব ও হৃদয় মাছবাজারে মেম্বার (পৌর কাউন্সিলর) রাজের অফিসে যান। কিন্তু সেখানে কাউন্সিলরকে না পেয়ে তারা মাছবাজারের ভেতর মুরগিপট্টির কাছে যান। সেখানে মুন্নার সঙ্গে তাদের দেখা হয়ে যায়। তাদের দেখে মুন্না রাকিবকে বলেন, ‘তুই এদের নিয়ে এসেছিস আমাকে মারার জন্য?’ এ কথা বলার পর মুন্না রাকিবের ঘাড়ে থাপ্পড় দেন। এ সময় মুন্নার উরুতে চাকু বসিয়ে দেন হৃদয়। পলাশও চাকু দিয়ে মুন্নার উরুতে আঘাত করেন। এরপর তিনি (শিমুল) রাকিবের কাছ থেকে চাকু নিয়ে মুন্নার পা ও হাতে আঘাত করেন। মুন্না মাটিতে পড়ে যান। এ ঘটনার পর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে শুনতে পান, মুন্না মারা গেছেন।   
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, মুন্না হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিমুল। তিনি শহরের লোন অফিসপাড়ার দুলালের ছেলে। তবে তাদের আসল বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শশা গ্রামে। মুন্নাকে হত্যার পর শিমুল ঢাকায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিন দিন আগে তিনি যশোরে এসেছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি শিমুলকে উপশহর বি-ব্লক এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মাছবাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হন আড়ত কর্মচারী শেখ ইমরান হোসেন মুন্না। পরে তাকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে নিলে সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় তার চাচা শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু চারজনকে আসামি করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন, শেখহাটির পলাশ, লোন অফিসপাড়ার শিমুল, রাকিব ও কাঠেরপুল এলাকার ছোট হৃদয়।

আরও পড়ুন