যশোরে সস্ত্রীক বিপুল, এসআই কাইয়ুম করোনায় আক্রান্ত

আপডেট: 04:49:43 03/07/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে আজ করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে শনাক্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল ও তার স্ত্রী টগর মাহমুদ। এছাড়া রয়েছেন সদর পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইনসপেক্টর কাইয়ুম মুন্সীও।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ফলাফল বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিভাগ আজ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে দেখা যায়, নতুন করে শনাক্তদের মধ্যে যশোর শহরসহ সদর উপজেলার ২১ জন, অভয়নগরের ছয়জন, ঝিকরগাছার শিশুসহ চারজন এবং শার্শার ছয়জনের নাম রয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বিপুল (৪৫) আজ তার ফলাফল পজেটিভ এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
সুবর্ণভূমিকে তিনি জানিয়েছেন, চার-পাঁচ দিন আগে তার ও স্ত্রী টগর মাহমুদের (৪১) নমুনা দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ফোন করে তাদের দুইজনের নমুনা পজেটিভ আসার খবর দেওয়া হয়।
তিনি জানান, বেশ কিছুদিন তিনি, স্ত্রী ও তাদের একমাত্র মেয়েসন্তান (৭) জ্বরে ভুগছিলেন। সন্দেহবশত তারা স্বামী-স্ত্রী নমুনা দিয়েছিলেন করোনা পরীক্ষার জন্য। এখন মেয়ের নমুনাও দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনজনই মোটামুটি সুস্থ আছি। বিশেষ করে বাচ্চাটা অনেক সুস্থ। তবে স্ত্রীর বুকে খানিকটা ব্যথা আছে।’
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার সময় থেকেই শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিপুল নিজের বাড়ি স্বেচ্ছায় তালাবদ্ধ করে একপ্রকার লকডাউনেই ছিলেন বলে জানান। বলেন, এখনো (শুক্রবার দুপুর) প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন করা হয়নি।
এদিকে, সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক কাইয়ুম মুন্সীও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকায় বসবাস এই পুলিশ কর্মকর্তার।
যশোর শহরসহ সদর উপজেলায় আজ আরো যারা করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, তারা হলেন, শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ৫৭ বছরের ও নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার ৪০ বছরের দুই নারী এবং ৫০ বছরের এক পুরুষ; পুলিশ লাইনের ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, রেল রোডের ৪৮ বছরের এক ব্যক্তি, একই এলাকার ২০ বছরের এক তরুণ ও ৪৫ বছরের এক নারী।
ঝুমঝুমপুরের ১৫ বছরের এক কিশোর, রেলগেটের ৬২ বছরের এক বৃদ্ধ, জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি শান্তা নামে এক যুবতী করোনা পজেটিভ।
সদর উপজেলার অন্যান্য এলাকায় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. উজির আলী (৫১), সুমন ভক্ত (৩৭), তাপস সাহা (৫২), আল্পনা সাহা (৫০), কাজী রমজান আলী (৩৫), রিয়াদুল ইসলাম (২৫), মো. ইব্রাহিম (৩৯) এবং রাসেল (৩৭) নামে আটজন।
অভয়নগর উপজেলায় আক্রান্তরা হলেন, গুয়াখোলা ওয়ার্ডের ৬৫ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ২৩ ও ৫৫ বছরের দুই নারী; বুইকরার ৩৬ ও ৪৮ বছর বয়সী দুই পুরুষ।
শার্শায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন ৫০, ২৭, ৩৬, ৪১, ৬৯, ৫৫ এবং ২০ বছর বয়সী ছয় পুরুষ।
ঝিকরগাছা উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে চার বছরের একটি মেয়েশিশু রয়েছে। আরো আছেন ওই শিশুর বাবা-মা, যারা দুইজনই চাকরিজীবী এবং সোনালী ব্যাংক ঝিকরগাছা শাখার এক নারী কর্মী (৪১)।
কেশবপুর উপজেলায় আক্রান্ত ব্যক্তি (৩২) সেখানকার অফিসপাড়ার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন