যশোর পৌরসভার ভোট নিয়ে যা বললেন সিইসি

আপডেট: 10:14:17 22/02/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তবে এ নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তিনি কিছু জানাননি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পাওয়ার পর কমিশনের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। একইসাথে তিনি এ নির্বাচন মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেটা সম্ভব না হলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন শেষ করবেন।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই মোতাবেক গত ২০ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২১ জানুয়ারি থেকে যথারীতি নির্বাচনী কাজ শুরু করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। এ অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করতে হাইকোর্টে রিট হয়। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্বাচনের ওপর তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। ওই আদেশের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনও স্থগিতাদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু এর মধ্যে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ চেম্বার জজ স্থগিত করে দেন।
এ অবস্থায় সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) যশোর সফর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এদিন সন্ধ্যায় যশোর সার্কিট হাউজে খুলনা বিভাগের তিনটি পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে তিনি যশোর পৌরসভার নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, উচ্চ আদালতের আদেশ হাতে পাওয়া, বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রার্থীদের পর্যপ্ত সময় দেওয়ার বিবেচনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, আদালতে রিট হওয়ার কারণে যেহেতু কিছুদিন নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ ছিল, এ কারণে সেই পরিমাণ সময় বৃদ্ধি করে ওই কাজগুলো করতে হবে। আর এটি করতে ১৫ থেকে ২০ দিন লেগে যেতে পারে। এসব কারণে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের যেকোনো দিন যশোর পৌরসভায় নির্বাচন হতে পারে। তারপরও সবকিছু নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের সভার ওপর। কমিশনের সভার পর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে সকালে কেশবপুরে পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বৈঠক শেষে সিইসি বলেছিলেন, 'উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদেশের কপি আমরা হাতে না পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে সাথে সাথে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রচার করা হয়, তখন আমরা মনে মনে প্রস্তুতি নেই, কী করতে হবে। আদেশের কপি পাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়।'
তিনি বলেন, 'মার্চে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কারণ ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হবে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনটি সম্পন্ন করা যেতে পারে। তারপরও বলবো যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।'
যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সভায় যশোর, কেশবপুর, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন নুরুল হুদা। এসময় তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের আইডিইএ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের, খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুছ আলী, যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয়কুমার জোয়ারদার, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজকুমার নাথ, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, যশোর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হুমায়ুন কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন