রাজপথের আন্দোলনেই ফয়সালা : মওদুদ

আপডেট: 08:10:52 09/02/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আর গণতন্ত্রের মুক্তি এখন এক হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে বলে আশা করা যায় না। রাজপথের আন্দোলনই এর একমাত্র ফয়সালা। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। দেশের বর্তমান একদলীয় শাসনের অবসান চায় জনগণ। এজন্য তারা নতুন সরকারের প্রত্যাশা করছে। এজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে ছাড়া গণতন্ত্রের মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রোববার বাদআছর যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে দলের প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই সব কথা বলেন।
এর আগে সকালে তিনি নড়াইল আদালতে একটি মানহানি মামলায় হাজির হন। জামিন পেয়ে তিনি যশোর হয়ে ঢাকা ফেরেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, একটি সাজানো, প্রহসনের মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে জেল দেওয়া হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের কোনো আদালতে এ ধরনের মামলায় কারোর সাজা হওয়ার কথা নয়। অথচ শুধুমাত্র প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে বিনাদোষে কারাবরণ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমরা আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আদালতে নানা যুক্তি ধরে আসছি। অথচ কোনোভাবেই তাকে মুক্তি দিতে চাচ্ছে না সরকার। এজন্য আমাদের নেতাকর্মীরা এখন রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের প্রত্যাশা করছেন। আন্দোলনই এখন খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র উপায়।’
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বেগম খালেদা শুধু নয়, দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন এ সরকারের দুঃশাসনের শিকার। আমি আজ নড়াইলের আদালত থেকে একটি মিথ্যা মামলায় হাজির হয়ে জামিন নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের একটি প্রোগ্রামে আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য আমার ভালো লেগেছিল। আমি তার বক্তব্যেকে স্বাগত জানিয়ে করতালি দিয়েছিলাম। আমি কেন করতালি দিলাম, কেন উৎসাহিত করলাম, এজন্য আমার নামে আদালতে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ করা হলো। সেই মামলায় আমাকে ঢাকা থেকে এসে আজ জামিন নিতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, এ থেকে প্রমাণ হয় দেশের মানুষ আজ কতটা খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে। তাই এ অবস্থা থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হলে আগে গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনে নামতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি কখন এক দফার আন্দোলনে যাবে তা এখন বলা যাবে না। সময় হলে সব বুঝতে পারবেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, আলহাজ আনিসুর রহমান মুকুল, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ গফুর, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যশোর ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মোর্ত্তজা ছোট, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পী প্রমুখ।
নেতারা এসময় মরহুম তরিকুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

আরও পড়ুন