রাজস্ব আয় কমেছে বেনাপোল বন্দরে!

আপডেট: 10:11:09 19/09/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বিভ্রান্তিকর অভিযোগের’ ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক অহেতুক হয়রানি করছে। এ কারণে বেনাপোল বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। যার ফলশ্রুতিতে এ বন্দরে ইতোমধ্যে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
আজ দুপুরে বেনাপোলে তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ নূরুজ্জামান বলেন, ভারতের সাথে অসম বাণিজ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্টের মালামাল আমদানি হয় এই বন্দর থেকেই। প্রতিবছর ভারতের সাথে আমাদের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। বেনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৫হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে।
কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আহসান আলী নামে দুদকের সাবেক একজন সহকারী পরিচালকের সঙ্গে আমদানিকৃত মালামাল ছাড় সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যা হয় কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীর সঙ্গে। ওই ঘটনার পর তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয়া হয়। পরবর্তীতে কাস্টমস কমিশনারের নামে অনৈতিক উপায়ে কোটি কোটি টাকা আয় এবং সেই টাকায় যশোর শহরে, নোয়াখালিতে তার গ্রামের বাড়ি, রাজধানী ঢাকাসহ কানাডায় জমি, ঘরবাড়ি, ফ্লাট, সম্পদ ইত্যাদি করেছেন-মর্মে অভিযোগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদকে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারীরা যে কাজ দুইদিনে সম্পন্ন করতেন, এখন তা এক সপ্তাহ লেগে যাচ্ছে। এতে করে গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী গতানুগতিক কোনও কর্মকর্তা নন। তিনি একজন সৃজনশীল মানুষ। গত দুই বছরে তিনি বেনাপোলে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, শুল্কায়নের গ্রুপ বিভাজন, ফোল্ডার ব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ সংস্কারমূলক কার্যক্রম করেছেন।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, জনৈক কামরুজ্জামান কর্তৃক তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ রাজস্ব বোর্ড তদন্ত করে সত্যতা পায়নি। তবুও বিভ্রান্তিকর এই অভিযোগের কারণে তাকে অনাহূত কাজে সময় ব্যয় করতে হচ্ছে বিধায় বন্দরের মূলকাজে বিঘœ ঘটছে।
এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন, সাবেক সভাপতি শামছুর রহমান প্রমুখ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

আরও পড়ুন