রাতের আঁধারে এসপি হাজির চাল-ডাল নিয়ে

আপডেট: 03:10:32 29/03/2020



img
img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : গভীর রাতে হতদরিদ্র মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাদের ঘুম ভাঙিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও সাবান পৌঁছে দিলেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।
ঘুম ভেঙে এসব পেয়ে যারপরনাই খুশি করোনার প্রভাবে কাজহারা মানুষেরা। তাদের কাছে এটি স্বপ্ন মনে হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, জেলা পুলিশের উদ্যোগে তাদের এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আর গরিবের পাশে দাঁড়াতে তিনি বিত্তবানদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।
গোটাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও করোনাভাইরাসের কবলে। প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে নিজবাড়িতে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। দেশের মানুষ কার্যত ঘরবন্দি। এ বন্দিদশার কারণে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিন এনে দিন খাওয়া হতদরিদ্র শ্রেণির মানুষ। সরকার এ দরিদ্র মানুষদের জন্য ত্রাণ সহায়তা চালু করেছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এরই মধ্যে গরিবের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে যশোর পুলিশ বিভাগ। নিজেদের অর্থায়নে তারা শুরু করেছে খাদ্য সহায়তার কাজ। আর এ কাজটি সম্পন্নের জন্য তারা সময় বেছে নিয়েছে রাতের আঁধারকে। রাতের সুনসান নীরবতাকে ভেদ করে তারা চলেছে হতদরিদ্রদের ঘর থেকে ঘরে। দরজায় গিয়ে কড়া নেড়ে সেইসব মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন চাল ডালসহ পাঁচ প্রকারের সামগ্রী। এই তৎপরতায় পুলিশ সুপারের সঙ্গে আরো ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. গোলাম রব্বানী শেখ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) জামাল আল-নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. অপু সরোয়ার প্রমুখ।
পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘‘করোনাভাইরাসে বাংলাদেশও আতংকিত। সরকারের ‘আদেশে স্টে হোম বা ঘরে থাকুন’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু ঘরে থাকতে গিয়ে যারা রিকশা চালান, দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের অনেক দুরাবস্থা। কাজ না পেয়ে অনেকে না খেয়ে আছেন- এমন সংবাদ আমাদের কানে এসেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ অফিসাররা কিছু টাকা-পয়সা একত্র করে আমরা কিছু চাল, ডাল, লবণ, তেল, সাবান নিয়ে বিভিন্ন সমস্যাপ্রবণ এলাকায় গিয়ে বিতরণ করছি। দিনের বেলায় অনেক মানুষ জড়ো হয়ে যায়, যে কারণে আমরা রাতে এসেছি। আগেই খোঁজ নিয়ে তালিকা করা কিছু পরিবারের সদস্যদের এ সহায়তা দিচ্ছি। যাতে স্টে হোম ও ফিজিক্যাল ডিসটেন্সের নিয়ম রক্ষা হয়।’’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিতরণকালে দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি। তারা প্রকৃত অর্থেই খুব কষ্টে আছেন। সামান্য সাহায্য পেয়েও তারা খুশি হয়েছেন। বাড়ির বাইরে যেতে না পারা, কাজ না থাকায় তারা অনেকে না খেয়ে, আবার অনেকে দু’এক বেলা খেয়া দিনপার করছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’
এদিকে, ঘুম ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পেয়ে মহাখুশি কাজহারা মানুষেরা। নাজিম উদ্দিন নামে একজন ট্রাকচালক বলেন, ‘এসপি সাহেব ঘরের দরজায় খাদ্য নিয়ে এসেছেন- বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি। কাজে বের হতে না পারায় গত তিনদিন ঘরে যা ছিল, তা শেষ। আজ চাল-ডাল না পেলে ছেলে-মেয়ের খুব কষ্ট হতো।’
জুয়েল মিয়া নামে একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী জানান, তিনদিন ধরে ঘরে বসে আছেন। এক টাকাও রোজগার নেই। এমন সময় পুলিশের পক্ষ থেকে চাল-ডাল পেয়ে খুব খুশি হয়েছেন তিনি।
পুলিশ রাতে বাড়ি এসে খাবার দিয়ে যাবে- এ কথা কখনো চিন্তা করেননি। সকালে কাউকে বললে কেউ বিশ্বাস করবে বলেও মনে হয় না, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন জুয়েল।
এদিকে, পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনিসহ জেলা পুলিশের একাধিক টিম রাতের মধ্যেই ২০০ পরিবারের ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। প্রতি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, এক লিটার তেল, এক কেজি লবণ ও দুটি সাবান।

আরও পড়ুন