রাতের সবজিওয়ালা

আপডেট: 10:43:01 10/01/2020



img

শহিদুল ইসলাম দইচ : দিনে যারা সদাইপাতি করতে পারেন না, তাদের জন্যে গভীররাত অবধি সবজির পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন আসলাম আলী সরদার (৫২)।
রাতের এই সবজিওয়ালা তার ভ্যানে থরে থরে সাজিয়ে রাখেন আলু, টমেটো কাঁচামরিচ, পেঁপে, ফুলকপি, ব্রকলি, বাধাকপি, মুলো, শিম, লালশাক, সবুজশাক, পালংশাক, ধনেপাতা, লাউ।
প্রতিদিন সন্ধ্যে ছয়টা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত রাস্তার গা-ঘেঁষে লাইটপোস্টের নিচে অপেক্ষা করেন সেগুলো বিক্রির।
যশোর শহরের দড়াটানা-বকুলতলায় শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের পাশে কালেক্টরেট পার্কের বিপরীতে ভ্যানের ওপর ডালা সাজিয়ে বিক্রি করেন হরেক রকমের সবজি।
সারাদিন কাজ শেষে কর্মব্যস্ত মানুষ ঘরমুখো হওয়ার সময় তার দোকানের সবজি কিনে বাড়ি ফেরে।  দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি যশোর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করে সবজি বিক্রি করে আসছেন।
আসলাম আলী সরদার কুষ্টিয়া জেলা সদরের থানাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে যশোর শহরের কারবালা পুকুরপাড়ে বাবলুর বাড়ির ভাড়াটিয়া। দুই ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার।
তিনি জানান, বড়ছেলে হাবিবুল ইসলামকে (২৮) বছর তিনেক আগে তিন লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ (মালয়েশিয়া) পাঠিয়েছেন। মেয়ে আসমা কুষ্টিয়ার একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে।
আসলাম আলী সরদার বলেন, '৪০ বছর আগে জিয়াউর রহমানের আমলে যশোরে এসেছিলাম। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আমার। সবজি বিক্রি করে তিল তিল করে জমিয়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠালাম। কিন্তু তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিনে। জানি না সে বেঁচে আছে, না কি মারা গেছে। ভাবছিলাম ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে হয়তো একটু সুখের মুখ দেখবো। কিন্তু সে গুড়ে বালি। আমার কপালে সুখ নেই। মেয়েটাও বড় হচ্ছে, তাকে বিয়েশাদি দিতে হবে। জানি না কপালে কী আছে!'
'মাঝেমধ্যে পৌরসভার লোকজন এসে বকাঝকা করে। আগে বেজপাড়া থাকতাম, কবরস্থানের পাশে সবজির দোকান ছিল। মাসখানেক হলো এখানে সবজি বিক্রি করছি। বেচাবিক্রি খারাপ না। প্রতিদিন ৫শ’-৭শ’ টাকা হয়। আবার অনেক সময় লসও হয়। কাঁচামাল তো!'
আসলাম আজ রাতে আলু ৩০ টাকা,  টমেটো ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকা , ব্রকলি ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ১০-২০ টাকা, মুলো দশ টাকা, শিম ২৫-৩০ টাকা, লালশাক দশ টাকা আঁটি, সবুজশাক দশ টাকা আঁটি, পালংশাক দশ টাকা আঁটি, ধনেপাতা ৫-১০ টাকা মুঠো ও লাউ ৩০-৪০ টাকা পিস বিক্রি করছেন।
এসব সবজি তিনি ছৌগাছা, চুড়ামনকাটি, বারবাজারের পাইকারি হাট থেকে এনে এখানে বিক্রি করেন। জানালেন, প্রায় সবই বিক্রি হয়ে যায়। অবশিষ্ট কিছু থাকলে সকালে ভ্যানে করে পাড়া-মহল্লায় বিক্রি করেন। খুব একটা নষ্ট হয় না। কিন্তু পরিশ্রম করতে হয় খুব বেশি।

আরও পড়ুন