রাস্তার মোড়ের গরম গরম পিঠা

আপডেট: 02:46:06 06/11/2020



img
img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : শীতকাল আর পিঠা যেন একসূত্রে গাঁথা। শীতের আমেজ প্রকৃতিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ শীতকালীন পিঠার দোকান। বিকেল থেকে সে দোকানগুলোতে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় জমছে মানুষের। বিক্রেতারা পিঠা  তৈরি করছেন আর ক্রেতারা দাঁড়িয়ে বা বসে গরম গরম পিঠা খাচ্ছেন। ঘরে পিঠা বানানো রীতি ফিকে হয়ে পড়ায় রাস্তাতেই ইচ্ছে পূরণ করছেন ভোজনরসিকরা। এ যেন শীতের আরেক আমেজ।
ঝিনাইদহ শহর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মোড়ে ও পাড়া-মহল্লায় স্বল্প আয়ের লোকজন গড়ে তুলেছেন পিঠার দোকান। শহরের মডার্ন মোড়, পুরনো মাগুরা বাসস্ট্যান্ড, টারমিনাল এলাকা, পোস্ট অফিস, পায়রা চত্বর, কলেজ মোড়, হাটের রাস্তা এলাকায় এসব পিঠার দোকান রয়েছে। মূলত  এসব দোকানে ভাপা ও চিতই পিঠা তৈরি হচ্ছে। রিকশাচালক, দিনমজুর, শিশু-কিশোর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পিঠার দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। আবার অনেককে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পিঠা খেতেও দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন।
এমনই একজন পিঠা বিক্রেতা আমরাফুর ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের পায়রা চত্বর মোড়ে চালের গুঁড়া, সর্ষে ভর্তা আর প্লাস্টিকের পিরিচ সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুসময় পর গরম কড়াইয়ে চালের গোলা দিয়ে ঢেকে দেন। পিঠাটি খাওয়ার উপযোগী হতে হতেই ক্রেতাদের ভিড় জমে যায় তার দোকানে। পত্রিকায় ঢাকা পিরিচে পিঠা নেন ব্যবসায়ী ইসমাইল ইসলাম। তিনি পিঠার কোনা ভেঙে সর্ষে ভর্তা মিশিয়ে মুখে পুরে স্বাদ গ্রহণ করেন।
এসময় তিনি বলেন, ছোটবেলার একটা সুখকর স্মৃতি হচ্ছে শীতের সকালে চুলার পাশে বসে ঝোলা গুড় মিশিয়ে চিতই পিঠা খাওয়া। গ্রাম থেকে শহরে এসে পিঠার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ভর্তা। তিনি জানান, যেহেতু এটা শীত মৌসুম বাসাবাড়িতে তো পিঠে বানায়। তবে বাসার ও এখানকার পিঠার স্বাদে অনেক পার্থক্য। বাসাবাড়ির পিঠায় সাধারণত আইটেম কম থাকে। আর এখানে যে পিঠা তৈরি হয়, বিশেষ করে এখানকার ভর্তার আইটেমটা অসাধারণ। চার-পাঁচটা আইটেমের ভর্তা থাকে। সবগুলোই আলাদা আলাদা সাদের। সবকিছছু মিলে এখানে বসে পিঠা খেতে বেশ ভালোই লাগে।
সালাম মিয়া নামে অপর একজন জানান, বাসা-বাড়িতে পিঠা বানানো বেশ ঝামেলার। আবার খেতেও ইচ্ছে করে। কী আর করা! দোকান থেকেই কিনে খাই।
রফিক উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে দুটি চিতই পিঠা খান। তিনি বলেন, পুরো শীতকাল সন্ধ্যার নাশতা পিঠা দিয়েই সারি। পাশ থেকে আরেকজন বলেন, ঘরে পিঠা বানানোর রীতি উঠে গেছে। সেটা পুষিয়ে দেয় রাস্তার পাশের এই দোকানগুলো।
পিঠা বিক্রেতা আমরাফুর ইসলাম বলেন, 'এবার শীত শুরু হাওয়ার আগেই প্রচুর পিঠা বিক্রি হচ্ছে। বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করি। তবে রাতে পিঠার চাহিদা বেড়ে যায়। তাই আয়ও এবার একটু বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লাভ হচ্ছে।'