রেড জোন বেনাপোল নাভারনে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

আপডেট: 08:50:47 07/08/2020



img
img

জয়নাল আবেদীন, শার্শা (যশোর) : করোনা সংক্রমণের পিক সময়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যেন উৎসবে মেতেছে যশোরের শার্শার মানুষ। শার্শার নাভারন, ও বেনাপোল এলাকা রেড জোন ঘোষণা হলেও সফলতা আসেনি। প্রতিদিন রেড জোনে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
২২ এপ্রিল শার্শা উপজেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন।এখন উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭২।এর মধ্যে ৬৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন এবং ১০১জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন দুইজন।
এই তথ্য দিয়েছেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলি।
উপজেলার কোথাও সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না লোকজন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মের বালাই নেই। নাভারন ও বেনাপোল এলাকায় করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও হুমকির মধ্যে পড়ছে। রেড জোন ঘোষণার পরও ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়েনি। আগের মতোই প্রায় স্বাভাবিকভাবেই সব কার্যক্রম চলছে।
ঈদের পর থেকে সাধারণ মানুষ দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও শারীরিক দূরত্ব না মেনেই শার্শা উপজেলার সড়ক-মহাসড়কে থ্রিহুইলার, নছিমন, করিমন, ইজিবাইক, পাখি ভ্যান, মোটরসাইকেলে চেপে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
মহামারীর বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে বাস ও থ্রিহুইলারে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও চালকরা আগের মতোই যাত্রী বহন করছেন। চালক ও যাত্রীরা শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি মোটেও তোয়াক্কা করছেন না। এমনকি মাস্কের ব্যবহারও কার্যত উঠে গেছে।
এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলবে ততদিন করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। নাভারন ও বেনাপোল এলাকায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চললেও মানুষের মাঝে কোনো ভীতি নেই। তারা করোনাকে পরোয়া না করে ইচ্ছেমতো চলাফেরা করছেন। একপ্রকার তারা কোনো কিছুই মানছেন না। এতে করে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ছে।
এদিকে বাজারঘাটে কারণে-অকারণে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ব না মেনে অফিসে যেতে, প্রয়োজন মেটাতে সব কাজেই এখন ব্যবহার হচ্ছে বাসের পাশাপাশি থ্রিহুইলার। পাবলিক বাসের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নিয়ে এরা যশোর-বেনাপোল ও নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কও দখলে রেখেছে। প্রতিটি থ্রিহুইলারে গাদাগাদি করে অন্তত দশজন যাত্রী নিয়ে এরা যাতায়াত করছে। তিন চাকার যানবাহনে ওভার লোড ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ না হলে ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও রাস্তাঘাটে তার তেমন প্রভাব পড়ছে না।
থ্রিহুইলারের একজন যাত্রী রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এরা ডবল ভাড়া নেচ্ছে। আবার দশজন যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ছে না। তাড়াতাড়ি যাওয়ার দরকার, তাই চাপাচাপি করে যাতি হচ্ছে।’
বেনাপোলের কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘১৫ মিনিটের পথ গাদাগাদি করে বইছি; এতে আর কী হবে? যা হয় হবে। ভয় করলি ভয়, না করলি নয়।’
যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে কাঠ উঠানোর কাজ করেন এমন ১৫ জন শ্রমিকের একটি দলের একজনেরও মুখে মাস্ক নেই বলে দেখা যায়। মাস্কের কথা জানতে চাইলে ওই দলের সর্দার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ট্রাকে কাঠ তুলার কাজ করি। মাস্ক মুখি দিয়ে কি দম বন্ধ হয়ে মরবো?’
কথা হয় কয়েকজন থ্রিহুইলার চালকের সঙ্গে। প্রথমেই তারা অকপটে বলেন, বেশি যাত্রী নিয়ে ধরা পড়লে অর্থদণ্ড কিম্বা শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। তারপরও বাড়ি বসে থাকলে খাবার জুটবে কীভাবে? রয়েছে এনজিওর কিস্তির চিন্তা। সংশয়ে দিন কাটছে তাদের। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও তাই রাস্তায় নেমেছেন তারা।
থ্রিহুইলার চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পেটের দায়ে রাস্তায় নামিছি। থ্রিহুইলার না চালালি খাবো কী? এই সময় আমরা প্যাসেঞ্জার বেশি পাচ্ছি। আয়-রোজগারও ভালো হচ্ছে।’
বেনাপোল থেকে প্রকাশিত ‘গ্রামের সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক এমএ মুন্নাফ বলেন, করোনার অজুহাতে চালকরা শারীরিক দূরত্বের বিষয়টি না মানলেও যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন ঠিকই। প্রতিটি গাড়িতে প্রতিদিন অন্তত ১০০ যাত্রী যাতায়াত করে। অধিকাংশেরই মুখে মাস্ক নেই। জীবাণুনাশক স্প্রের কোনো ব্যবস্থা নেই। এভাবে যদি তিন চাকার যানবাহন চলতে থাকে তাহলে ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘একচুয়ালি আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। মাইকিং করেছি, নিজে সরেজমিনে বুঝিয়েছি, জরিমানা করেছি। কিন্তু মানুষ তো অসচেতন, কিছুই মানতে চাচ্ছে না। ধর্মের দোহাই দিচ্ছে, আরো কত কী ব্যাখ্যা! আমাদের নিজ থেকে সচেতন না হলে আসলেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’
‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মানুষ কারণে-অকারণে নানা অজুহাতে বাইরে চলাচলের চেষ্টা করছে। অকারণে বাইরে বের হওয়া মানুষগুলোকে বুঝিয়ে আবার বাড়ি ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমরা চলে আসলে আবার অবস্থা যা তাই। তারপরও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে,’ বলছিলেন এসিল্যান্ড খোরশেদ।

আরও পড়ুন