লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা, বহু বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে

আপডেট: 01:05:04 22/05/2020



img
img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গোটা সাতক্ষীরা।
উপকূলীয় চারটি উপজেলার কমপক্ষে ২০টির পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে অনেক রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার ব্রান্ড খ্যাত আমের।
এদিকে, শহরের কামাননগরে গাছ চাপা পড়ে করিমন নেছা নামে এক নারী মারা গেছেন।
সুন্দরবন-সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গাবুরা ও আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কয়েকটি স্পটে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০ ফুটের মতো এলাকা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। কামালকাটি ও চণ্ডিপুর এলাকায় পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকছে। গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখানি ও নাপিতখালী এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
এছাড়া আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, হিজলা, দিঘলাররাইট, কোলা এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে বলে জানান আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা।
সাতক্ষীরা জেলার প্রায় সব এলাকায় কমবেশি গাছপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ায় এবং খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও টিনের চাল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিবেগে বুধবার বিকেল চারটার পর থেকে সুন্দরবন উপকূলে আম্পান আছড়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে জেলা শহরের ওপর আঘাত হানে সাইক্লোন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজর গিফারী জানান, আম্পানের কারণে নদীর পানি তিন থেকে চার ফুট বৃদ্ধি পায়। প্রবল জোয়ারে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁতনেখালি, দুর্গাবাটি, পদ্মপুকুর ও গাবুরার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কয়েকটি স্থানে ওভারফ্লো হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। কাঁচা ও টিনের ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ-গাছালি উপড়ে রাস্তা-ঘাট ও বাড়ি-ঘরের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, ১৪৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও এক হাজার ৭০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। এখানে তিন লাখ৭০ হাজার মানুষ আশ্রয় নেন। জেলায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি ১০৩ জনের মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
মরিচ্চাপসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দুই থেকে তিন ফুট বেড়েছে। শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ এবং আশাশুনি উপজেলার দয়ারঘাট, হাজরাকাটি, কুড়িকাউনিয়া, মণিপুরি ও বিছট এলাকার ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে তালিকা তৈরির কাজ করছেন। তাদের কাছ থেকে তালিকা পেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো জরুরি সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন