লাখো অনুসারীর শ্রদ্ধায় সিক্ত শফীর শেষ বিদায়

আপডেট: 06:45:15 19/09/2020



img
img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : হেফাজতে ইসলামের লাখো ভক্ত, অনুসারী আর মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থীর দোয়া প্রার্থনা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয় বিদায় নিলেন শতবর্ষী আমির শাহ আহমদ শফী।
মৃত্যুর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার মাদরাসা পরিচালনা নিয়ে হঠাৎ সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ছেড়েছিলেন টানা ৩৪ বছর দায়িত্ব পালন করা মহাপরিচালকের পদ, তবে মৃত্যুর আমোঘ ডাকে সাড়া দেওয়া আহমদ শফীর জানাজায় এসব টেনে আনেননি তার পক্ষ-বিপক্ষ। সবার শ্রদ্ধা আর প্রাপ্য সম্মান দিয়েই জানাজা শেষে দাফন হলো তার। সমবেত ছাত্র আর পরিবার সদস্যদের কাঁধে চড়ে জানাজা শেষে তাকে নামানো হলো হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসা-সংলগ্ন মাঠের মাটির ঘরে। চির বিদায় নিয়ে এখানেই চির ঘুমে শায়িত হলেন বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পালনকারী এই ধর্মগুরু।
এর আগে শনিবার দুপুর দুইটা দশ মিনিটে হাটহাজারী মাদরাসা মাঠে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে হেফাজত আমিরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াত আহমদ শফীর বড় ছেলে রাঙ্গুনিয়া পাখিয়ারটিলা কওমি মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ মাদানি নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন।
তার জানাজাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম শহর, হাটহাজারীসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার নামাজ মাদরাসা মাঠের বাইরে চট্টগ্রাম শহরের দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড, বিপরীত দিকে মিরেরহাট পর্যন্ত এবং অন্যদিকে হাটহাজারী কলেজ মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর মাদরাসা মাঠসহ ভবনের বিভিন্ন তলায় ও ছাদেও শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন।   
এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মাদরাসার মজলিসে শূরার বৈঠকে শাহ আহমদ শফী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এরপর অসুস্থবোধ করলে রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার বিকেলে সেখান থেকে ঢাকার আসগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। শনিবার সকাল নয়টায় হাটহাজারী মাদরাসায় আল্লামা শফীর মরদেহ আনা হয়। জানাজা শেষে এ মাদ্রাসা-সংলগ্ন মাঠে তাকে সমাহিত করা হয়।
আহমদ শফী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে ১৯১৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম বরকত আলী ও মায়ের নাম মেহেরুন্নেছা।
তিনি রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদরাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসায় কিছুদিন লেখাপড়া করেন। তারপর দশ বছর বয়সে তিনি হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে দীর্ঘদিন অধ্যয়ন করার পর ১৯৪১ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে যান এবং দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি চার বছর তাফসির, হাদিস, ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসাইন আহমদ মাদানির সংস্পর্শে আসেন এবং তার কাছে আধ্যাত্মিক শিক্ষালাভ করেন।
শফী ১৯৪৬ সালে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন এবং আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে মাদরাসাটির মজলিশে শূরা তাকে মহাপরিচালক বা মুহতামিম নিযুক্ত করে। পরবর্তীতে তিনি মাদরাসাটির শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পান।
২০০৮ সালে তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড– বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হাটহাজারী মাদরাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠন করা হলে আহমদ শফীকে এর আমির মনোনীত করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন