লোহাগড়ায় সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: 06:47:38 21/10/2020



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদা গ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় একটি সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে সেতু নির্মাণে লাখ লাখ টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ।
গ্রামবাসীর অভিযোগে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে লোহাগড়া উপজেলায় ১৬টি সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রের চার নম্বর প্যাকেজে আমাদা হাজরাখালী খালের ওপর গোলাম নবীর বাড়ির পাশে সেতু নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু স্থান পরিবর্তন করে নির্ধারিত স্থানের অন্তত তিন-চারশ’ ফুট দূরে হাসান মৃধার বাড়ির পাশে ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৪ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
নির্মিত সেতুটির গভীরতা বা মোট উচ্চতা ১৯ ফুট করার কথা থাকলেও করা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ১৫ ফুট। সেতুটির ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মিত হয়েছে বলে গ্রামবাসী বলছেন। এছাড়া সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক এখনো তৈরি করা হয়নি। অথচ সংযোগ সড়ক করা বাবদ বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ উত্তোলন করে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের মালিক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেতুটির উইং ওয়াল তৈরিতে দরপত্রের পরিমাপ মানা হয়নি। সেতুর নিচের অংশের বেজ ঢালাইয়ে রড ও বালির ব্যবহার দরপত্র অনুয়ায়ী হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেতুর নির্মাণে অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন দুদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
এ প্রসঙ্গে আমাদা গ্রামের আব্দুর ওহাব গাজীর ছেলে সিদ্দিকুর রহমান গাজী বলেন, ‘সেতুর গভীরতা ১৯ ফুট করার কথা থাকলেও ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিমের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেতু নির্মাণে অনিয়ম করেছেন। সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়ে।’
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সেতুটির স্থান পরিবর্তন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গ্রামবাসীরা। তবে সেতুর ডিজাইন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরিবর্তন করা যায়।’
এই বিষয়ে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের মালিক আশরাফ মুন্সী বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডারে সেতুর কাজ পেয়েছি। কিন্তু সেতুর নির্মাণ কাজ আমি করিনি। করেছেন সাব-ঠিকাদার উজ্জ্বল।’
সাব-ঠিকাদার উজ্জ্বল বলেন, ‘আমি দরপত্র মোতাবেক কাজ করেছি। কোনো অনিয়ম হয়নি।’

আরও পড়ুন