লোহাগড়ায় সড়কের ধারের গাছ লোপাটের অভিযোগ

আপডেট: 05:27:55 25/10/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : লোহাগড়ায় বন বিভাগের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কামঠানা-কাউড়িখোলা সড়কের দুই পাশের প্রায় ১৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ বিনা টেন্ডারে কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গাছগুলোর আনুমানিক দাম পাঁচ লক্ষাধিক টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন কামঠানা- কাউড়িখোলা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় দুই পাশ দিয়ে বাবলা, রেইন্ট্রি, গামারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় কয়েক শতাধিক গাছ ছিল। গাছগুলো রোপণ করেছিলেন কাউড়িখোলা-কামঠানা বনায়ন সমিতি সদস্যরা। প্রায় ৩০ বছর ধরে তাদের তত্ত্বাবধানে গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে। অথচ সমিতির সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রাপ্য অংশ না দিয়ে এমনকি তাদের না জানিয়ে বিনা টেন্ডারে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বনায়ন সমিতির কয়েক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, কোনো সভা বা রেজুলেশন না করে গাছ কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে সমিতির সভাপতি মনি মিয়া শেখের বক্তব্য জানা যায়নি।
ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল শিকদার ও সমিতির সদস্য ছানোয়ার শেখসহ কমিটির অনেকেই জানান, তাদের না জানিয়ে গত কয়েক দিন ধরে বন বিভাগের লোকেরা শ্রমিক দিয়ে রাস্তার দুই পাশে রোপণ করা মূল্যবান রেইন্ট্রি, বাবলা, গামারিসহ প্রায় ১৫০টি অতি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে গেছে। যার দাম পাঁচ লক্ষাধিক টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, বন বিভাগের লোকসহ ওই সমিতির দুই-একজন মিলে কাটা গাছের বেশির ভাগ গুঁড়ি লোহাগড়ার কালনা সড়কের পাশে অবস্থিত করাতকল এলাকার তিন-চার জায়গায় রেখে সেখান থেকে বিক্রি করছেন। সেখান থেকে বেশ কিছু গাছের গুঁড়ি গত শনিবার সকালে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, কামঠানা-কাউড়িখোলা সড়ক চওড়া করে পাকাকরণের জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা খোড়া হচ্ছে। সড়কের দুই পাশে শতাধিক গাছের গোড়া কাটা ও গর্ত করে গোড়ার অংশ খুঁচে নিয়ে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। কাটা গাছের কিছু গুঁড়ি রাস্তার পাশে রয়েছে। অনেক গুঁড়ি পাশের কামঠানা গ্রামের জনৈক আলমগীরের বাড়িতে লুকানো রয়েছে। লোহাগড়ার কয়েকটি করাতকলের পাশে বড় গাছের গুঁড়ি রাখা আছে। এছাড়া উপজেলা বন বিভাগ চত্বরে ছোট বড় প্রায় ২০-২৫টি গাছের ছোট ছোট গুঁড়ি নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত বন বিভাগের কর্মচারী ইকবাল হোসেন বলেন, কামঠানা-কাউড়িখোলা সড়কটি চওড়া করা হচ্ছে। যার কারণে দুই পাশের বেশ কিছু গাছ কাটা হয়েছে। গাছগুলো উপজেলা বন বিভাগের অফিস চত্বরে রাখা হচ্ছে।
গাছ বিক্রির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। করাতকলের পাশে রাখা গাছের গুঁড়ি সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল নন বলে জানান।
এ ব্যাপারে জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগ আমাদের না জানিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করায় রাস্তার পাশের কিছু গাছ ভেঙে পড়ার আশংকা দেখা দেয়। সেই গাছগুলো কেটে লোহাগড়ার বন বিভাগের অফিস চত্বরে রেখে দেওয়া সিদ্ধান্ত হয়। দ্রুত সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় টেন্ডার বা যে সকল নিয়ম-কানুন আমাদের আছে, তার কোনোটাই করা সম্ভব হয়নি। পথে বা অন্য কোথাও কেউ কোনো গাছ রেখেছে কিনা বা বিক্রি করেছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোসলিনা পারভীন বলেন, ‘এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তবে শুনলাম, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

আরও পড়ুন