লোহাগড়ায় অনাড়ম্বর দুর্গাপূজা

আপডেট: 10:58:38 19/10/2020



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গপূজা দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারির কারণে এ বছর দুর্গাপূজা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই বললেই চলে। অন্য বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়ে থাকে, এ বছর তা হয়নি।
করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও পারস্পরিক দূরত্বসহ নানবিধ নির্দেশ মেনে পূজা পালনের বাধ্যবাধকতা থাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভাটা পড়েছে।
মহামারির মধ্যে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ বছর রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব যথাক্রমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে বিধিনিষেধের মধ্যে সীমিত পরিসরে। একই অবস্থা হতে চলেছে দুর্গাপূজার ক্ষেত্রেও। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আরোপিত বিধিনিষেধ মেনেই মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতার সম্পন্ন হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথীতে অনুষ্ঠিত হবে দেবীর বোধন, দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা। পরের দিন ২৩ অক্টোবর সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার-অনুষ্ঠান। ২৪ অক্টোবর পালিত হবে মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পর্ষদের সভাপতি প্রবীরকুমার কুণ্ডু মদন জানান, করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে দুর্গাপূজা পালিত হবে। এ বছর লোহাগড়া পৌর এলাকার ৩৭টি মণ্ডপে আর ১২টি ইউনিয়নের ১১৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও পারস্পরিক দূরত্ব মেনে পূজা উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কথা হয় পৌর এলাকার কচুবাড়িয়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপের অন্যতম কর্ণধার কাজল পালের সঙ্গে। তিনি জানান, অন্য বছর দুর্গাপূজায় লক্ষাধিক টাকার বাজেট থাকলেও এ বছর তা হচ্ছে না। সীমিত পরিসরে নির্দেশনা মেনে পূজা করা হবে।
লোহাগড়া পৌর পূজা উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন কুণ্ডু ছোটন বলেন, করোনাকালে সনাতন ধর্মালম্বীদের মন ভালো নেই। তাই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা হবে।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, পূজাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা পূজা চলাকালে টহলসহ জনস্বার্থে নানাবিধ কাজ করবে।

আরও পড়ুন