শত মানুষের সামনে খুন করলো যুবলীগ নেতা

আপডেট: 11:09:32 28/06/2020



img
img
img
img
img
img


স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শত শত মানুষের সামনে খুন হয়ে গেলেন রিপন নামে এক যুবক। খুন করে বরকত নামে এক যুবক; যে যশোর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক।
ঘটনার পর স্থানীয়রা খুনিকে পাকড়াও করে পিটুনি দেয়। সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী পরিচয়ধারী এক যুবতী খুনি বরকতকে জড়িয়ে ধরেও রক্ষা করতে পারেননি। একপর্যায়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বরকতকে খুনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
প্রকাশ্যে লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বাঘারপাড়ার লোকজন। তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। দফায় দফায় মিছিল হচ্ছে বাঘারপাড়া বাজারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুর একটার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে বরকত নামে এক যুবক ও তার স্ত্রী পরিচয়ধারী এক যুবতী রিপন নামে এক চালকের সঙ্গে গাড়ি ভাড়া নিয়ে কথা বলছিল। ওইসময় ভাড়া নিয়ে তাদের বচসা হয়। একপর্যায়ে বরকত তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে রিপনের বুকের বামপাশে আঘাত করে। ঠেকাতে গেলে সেখানকার ওষুধ ব্যবসায়ী হিরুও ছুরিকাহত হন।
রিপনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনেন সহকর্মীরা। কিন্তু হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার এনাম উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই যুবক মারা যান।
নিহত রিপন বাঘারপাড়া শহরের মহিরন এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে।
আহত ওষুধ ব্যবসায়ী হিরু আহমেদ সুবর্ণভূমিকে বলেন, 'আমার ফার্মেসির সামান্য দূরে একটি মোটরসাইকেলে বরকত ও ভ্যানের ওপর একটি মেয়ে বসে কথা বলছিল। পরে দেখি, স্ট্যান্ডের ড্রাইভার হাসিবুল ও বরকত কী নিয়ে যেন আলাপ করছে। হঠাৎ হাসিবুলকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে বরকত। ওই অবস্থা দেখে স্ট্যান্ডে থাকা অন্য ড্রাইভারদের সঙ্গে রিপনও এগিয়ে যায়। তারা কী কারণে হাসিবুলকে মারধর করা হচ্ছে- তা জানতে চায় বরকতের কাছে। কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি বের করে বরকত। অবস্থা বেগতিক দেখে আমিও দোকান থেকে বের হয়ে এগিয়ে যাই তাদের ঠেকাতে। ভীড়ের মধ্যে বরকত আমার বাম হাতে ছুরি মারে করে। পাশে দেখি গাড়িচালক রিপন কাতরাচ্ছে। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছে। সেইসময় উত্তেজিত ড্রাইভার ও স্থানীয় লোকজন বরকতকে ধরে বেদম পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে কিছুসময়ের মধ্যে পুলিশ এসে বরকতসহ স্থানীয় দুই যুবক রাজু ও মিলনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়।'
এদিকে, রিপনের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা রিপনের খুনির শাস্তি এবং নিরীহ দুই যুবককে ছেড়ে দেওয়ার দাবিও জানাতে থাকেন।
পরে স্থানীয় আরো নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা খুনি বরকতের কঠোর শাস্তি চেয়ে দফায় দফায় মিছিল করতে থাকেন বাঘারপাড়া বাজারে। একপর্যায়ে পুলিশ আটক রাজু ও মিলনকে ছেড়ে দেয়। এতে আন্দোলনকারীরা আশ্বস্ত হয়ে অবরোধ তুলে নেন।
বাঘারপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন বলেন, কী কারণে রিপনকে ছুরিকাঘাত করা হয়- তা এখনো জানা যায়নি। তবে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুবক বরকতকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বরকত যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার নামে কোতয়ালী থানায় মামলা রয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, খুনি বরকত আওয়ামী যুবলীগ যশোর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক। স্থানীয় একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য সে। অপরাধমূলক তৎপরতা তো বটেই; একাধিক বিয়ে করা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে নারীঘটিত অনেক অভিযোগ আছে।

আরও পড়ুন