শার্শায় দুর্গাপূজার শেষ সময়ের প্রস্তুতি

আপডেট: 02:53:51 19/10/2020



img
img

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল (যশোর) : করোনা মহামারীতে এবার শার্শায় কমছে দুর্গাপূজার আড়ম্বর। চলমান পরিস্থিতিতে এবছর পূজা উৎসব নয় ধর্মীয় রীতিতেই থাকবে সীমাবদ্ধ। তবে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে জোরেসোরে।
২২ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। ২৬ অক্টোবর দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের আনুষ্ঠানিকতা। ফলে বাকি আছে আর মাত্র কয়েক দিন। এবার যশোরের শার্শা উপজেলায় এ বছর ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এখন মণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কাজে সময় পার করছেন আয়োজক কমিটি ও শিল্পীরা। বেশিরভাগ জায়গায় প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনেক মণ্ডপে ইতিমধ্যে মাটির কাজ শেষে শুরু হয়ে এখন রঙ তুলির আঁচড় দেওয়া হচ্ছে।
এবছর শার্শার যে ১৭টি মণ্ডপে পূজা হবে, তার মধ্যে ও বেনাপোল পোর্ট থানায় রয়েছে নয়টি মণ্ডপ। পরিস্থিতিগত কারণে এবছরের পূজায় কোনো আলোকসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে না। প্রতিটি মন্দিরে থাকবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার জন্য থাকবে সাবান-পানির ব্যবস্থা। বিতরণ করা হবে মাস্ক। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের উৎসব হবে জৌলুসহীন।
প্রতিমা শিল্পী কানাইলাল সরকার জানান, ‘করোনার কারণে অন্য বছরের মতো আমরা প্রতিমা তৈরি কাজ করতে পারিনি। এবছর মোট চারটা প্রতিমা তৈরি করছি আমি। দুটোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি। আর দুটো বাকি আছে। পূজার আগেই শেষ হবে। এখন রঙের কাজ পুরোপুরি চলছে। রাতেও কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।’
শার্শা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সুকুমার দেবনাথ বলেন, ‘পূজাকে আকর্ষণীয় করে তোলে মূলত মা দুর্গার প্রতিমা। দুর্গা মায়ের প্রতিমায় ভক্তদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রচুর কাঁচা পণ্যের প্রয়োজন হয়। তবে বাজারে কাঁচাপণ্যের দাম বাড়ায় এবার প্রতিমা তৈরিতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’
শার্শা উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তমকুমার রায় বলেন, ‘আসলে এবারের দুর্গাপূজাটা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতিতে। যার ফলে উৎসব করার সুযোগটা থাকছে না। যখন উৎসব থাকে, তখন মানুষের মন বড় থাকে। মানুষ চায় তার মণ্ডপটি সবচেয়ে সুন্দর হোক, বড় হোক। মানুষের মধ্যে সেই উৎফুল্লতা নেই। ধর্মীয় রীতি পালন করতে হবে বলেই হয়ত এবার প্রতিমাগুলো ছোট হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারীতে সব পূজামণ্ডপে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপনে ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিষদ।’
শার্শা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বৈদ্যনাথ দাস বলেন, ‘এবারের এ দুর্গাপূজায় প্রচণ্ড আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকলেও পূজার মূল বিষয়বস্তুকে বাদ দেওয়া যায় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, বৈশ্বিক এই মহামারীতে আর্থিক এ সংকটের মধ্যে আমাদেরকে একটু অর্থ সহযোগিতা যেন বাড়িয়ে দেন।’
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান ও বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন খান বলেন, ‘আসন্ন দুর্গাপূজা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উদযাপিত হবে। আমরা নিয়মিত টহলের মাধ্যমে মণ্ডপসমূহ মনিটরিং করছি। সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে আমরা পূজার অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন