শালিখায় ডোর কারখানায় হামলা ভাঙচুর লুটপাট

আপডেট: 04:47:37 03/12/2020



img

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলায় আড়–য়াকান্দি এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে আরকে ডোর কারখানায় হামলা চালিয়েছে সংঘবদ্ধ গ্রামবাসী। ওই সময় কারখানার অফিস কক্ষ ভাঙচুর, ল্যাপটপসহ অফিসে থাকা নগদ ৮-১০ লাখ টাকা লুট হয়েছে বলে দাবি করছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় পুলিশ শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামের নয় বাসিন্দাকে আটক করেছে।
সরেজমিন কথা হয় আরকে ডোর কারখানায় সত্বাধিকারী জুয়েল হোসেন সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বুধবার বিকেলে আমার কারখানার একটি মালবোঝাই ট্রাক সীমাখালী বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় হরিশপুর গ্রামের রেজাউলের সঙ্গে ট্রাকের ড্রাইভারের কথাকাটাকাটি হয়। ওই সময় রেজাউল আমার ট্রাকের ড্রাইভারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে। এই ঘটনার সূত্র ধরে হরিশপুর গ্রামের জসিম মেম্বার, আবদুল আজিজ, তরিকুল, হুমায়ন, করিব ও আলমগীরের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় আমার কারখানায় হামলা চালায়। তারা আমার কারখানার জানালা, দরজার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে অফিসেকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল ভাঙচুরসহ অফিসে থাকা একটি ল্যাপটপ ও নগদ ৮-১০ লাখ টাকা লুট করে। অফিস লুটের পর তারা কারখানায় ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। হামলার সময় কারখানার কর্মরত শ্রমিকরা নিরাপত্তার জন্য চিৎকার করে আশপাশে ছুটে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমার কারখানাটিতে আগুন লাগানো। হামলার পরপরই আমি পুলিশকে জানাই।’
তিনি জানান, কারখানাটিতে বর্তমানে এলাকার প্রায় ২০০ নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলার পর কারখানা আংশিক চালু রয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য জেলার পুলিশ সুপারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, ‘আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি যারা ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আটকের জন্য পুলিশের জোর চেষ্টা চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হবে। আমরা কারখানাটি বন্ধ না করে চালু রাখতে বলেছি। কারণ এ কারখানায় অনেক দরিদ্র শ্রমিক কাজ করে। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে কারখানায় পুলিশ পাহারা রয়েছে।’

আরও পড়ুন