শ্যামনগরে কলেজছাত্রীর লাশ, ধর্ষণ বলে সন্দেহ

আপডেট: 01:34:04 10/01/2020



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : শ্যামনগরে মরিয়ম খাতুন (২০) নামে স্নাতক প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরের বল্লভপুর ধানের ক্ষেতে খড়ের গাদার ওপর থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে গেনজি ও স্যুয়েটারসহ প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় থাকা মৃতদেহের জিহ্বা অনেকটা বের হয়ে ছিল।
উপজেলা সদরের বাদঘাটা গ্রামের পান বিক্রেতা আব্দুল কাদেরের মেয়ে মরিয়ম শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
তার বাবা আব্দুল কাদের জানান, বুধবার রাতে ভাত খাওয়ার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে মরিয়ম ঘরের বাইরে যান। দীর্ঘসময় পরেও ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টয়লেটের পাশে একটি ওড়না ঝুলে থাকতে দেখেন তারা।
কাদের আরো জানান, মেয়ের খোঁজ না পেয়ে তিনি বৃহস্পতিবার শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পাশের বল্লভপুর গ্রামে খড়ের গাদার ওপর মেয়েকে মৃত অবস্থায় পান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নারগিস আক্তার, গ্রামবাসী জিয়াউর রহমান ও আমজাদ হোসেনসহ অনেকের ধারণা, ধর্ষণের পর মেয়েটিকে গলা টিপে বা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েটির শরীরের বেশ কিছু স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তারা জানান। গলায় গিঁট দেওয়া ওড়না ছাড়াও ঘটনাস্থলের পাশে আরো দুটি ওড়না পড়ে ছিল, বলছেন তারা।
শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের অধ্যক্ষ তন্ময়কুমার সাহা জানান, তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেই কারণে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলহাজ মো. নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বল্লভপুর গ্রামের ধানেরক্ষেতে খড়ের ওপর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি-না তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত করা যাবে।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন